ঠাকুরগাঁওয়ে সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি

সংঘাত-হানাহানি ভুলে সম্প্রীতির রাজনীতি করার আহ্বান

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক চর্চার নামে সংঘাত পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাত-রক্তপাত আমরা চাই না। বাংলাদেশে একটা গণতন্ত্র ও সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই, মানুষের অভাব মোচন কীভাবে করা যায়, কীভাবে শিক্ষা বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান। গণতন্ত্র রক্ষায় হানাহানি-সংঘাত ভুলে সম্প্রীতির রাজনীতি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল গতকাল রবিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে দেওয়া নাগরিক কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন তিনি। রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়েই বইছে উৎসবের আমেজ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে করা অঙ্গীকার বা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ভুল্লী এবং রুহিয়া উপজেলা করা হয়েছে। বিমানবন্দরও চালু হবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে, কলকারখানা বাড়াতে হবে। বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবেন আশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চীনা রাষ্ট্রদূত এ জেলায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। চীন থেকেও যেন কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ হয়, এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরানো এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক কমিটির সভাপতি ডাক্তার আবু মো. খায়রুল কবীর।

দুই দিনের সফরে রবিবার দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। এরপর তিনি সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত