জেনারেল আজিজ ও তার স্ত্রীর সম্পদ যাচাই করবে দুদক

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদবিবরণী যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাদের সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে সংস্থাটি। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

দুদক সূত্র জানায়, দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদবিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিধি অনুযায়ী যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন এক আইনজীবী। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে জেনারেল আজিজ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে আলিশান বাংলো নির্মাণ করেছেন জেনারেল আজিজ। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাংলো নির্মাণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি এবং ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর সড়কে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামে একটি বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তার দুই ভাইয়ের নামেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা ও বাড়ি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যান। এর প্রায় তিন বছর পর ২০২৪ সালের মে মাসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

সাবেক ডিআইজি আতিকা ইসলামের স্বামীর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক : অন্যদিকে, সাবেক ডিআইজি আতিকা ইসলামের স্বামী ও লাক্সিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও উৎস জানতে নোটিস পাঠিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরের মোট আয় ১ কোটি ১৬ লাখ ১৯৮ টাকা। এ সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয়েছে ৫২ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৯ টাকা। ফলে আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট সঞ্চয় হওয়ার কথা ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকা। কিন্তু দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বৈধ আয় থেকে ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ সঞ্চয় থাকার কথা, তার তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

এ কারণে অতিরিক্ত ২ কোটি টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (১) ধারা অনুযায়ী ডা. ফারদিন ইসলাম সাগরকে সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিস দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত