রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়া সেই ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রবিবার রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসমাইল হোসেনের বরখাস্তের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে উঠে আসে। তার এ কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের সামিল হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হলো।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধিমোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং বরখাস্তের এই আদেশ তার চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়ে প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন ইসমাইল হোসেন। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়া ছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স, সাধারণ নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদসহ নানা সেবামূলক কাজে মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন এলাকার মানুষ।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ইসমাইল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত