আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ভয়াবহতা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

মানুষের জীবনে স্বস্তি, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। অর্থ, সম্পদ, সাফল্য, সম্মান কিংবা প্রিয়জনের ভালোবাসা জীবনে আনন্দ আনতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই অন্তরের প্রকৃত প্রশান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। কারণ মানুষের অন্তরের প্রকৃত শান্তি নিহিত রয়েছে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্যে। মহান আল্লাহকে ভুলে গেলে বাহ্যিক জীবন যতই সমৃদ্ধ হোক, অন্তরে তৈরি হয় এক অদৃশ্য শূন্যতা।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কেয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।’ (সুরা তাহা ১২৪)

এই আয়াতে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হওয়ার ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ‘সংকুচিত জীবন’ বলতে শুধু অভাব কিংবা দারিদ্র্য বোঝানো হয়নি। বরং এমন জীবন বোঝানো হয়েছে, যেখানে বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্য থাকা সত্ত্বেও অন্তর প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত থাকে। অনেক মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে, অথচ তারা অস্থির। ঘুম আছে, কিন্তু প্রশান্তি নেই। সম্পদ আছে, কিন্তু তৃপ্তি নেই। মানুষের ভালোবাসা আছে, কিন্তু অন্তরের শূন্যতা কাটে না। কারণ মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকা অন্তর কখনো পূর্ণতা অনুভব করতে পারে না।

আল্লাহর জিকির বা স্মরণ শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণের নাম নয়। আল্লাহকে স্মরণ করা মানে তার প্রতি বিশ্বাস রাখা, তার আদেশ মেনে চলা, তার নিষেধ থেকে বিরত থাকা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভর করা। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইস্তিগফার ও তাসবিহের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে দৃঢ় করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ ২৮)

আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আরেকটি ভয়াবহ পরিণতি কেয়ামতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উঠাবেন। তখন সে বিস্মিত হয়ে বলবে, ‘হে আমার রব, কেন আমাকে অন্ধ করে উঠিয়েছেন, অথচ আমি তো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ছিলাম?’ আল্লাহ বলবেন, ‘এভাবেই তো আমার নিদর্শনাবলি তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।’ (সুরা তাহা ১২৫-১২৬)

সুতরাং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকা সামান্য কোনো বিষয় নয়। এটি মানুষের দুনিয়ার শান্তি নষ্ট করে এবং আখেরাতের পরিণতিও ভয়াবহ করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও একজন মুমিনের উচিত নামাজকে গুরুত্ব দেওয়া, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া, নিয়মিত জিকির ও ইস্তিগফার করা এবং প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ রাখা। কারণ যে হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত প্রশান্তির সন্ধান পায়।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত