উপাচার্যের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আন্দোলনে অনড় চাকসু

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেট ভাঙা ও ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালুর দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসু। আন্দোলন স্থগিত রাখার জন্য উপাচার্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চাকসু নেতৃবৃন্দ।   

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় মূল ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চাকসু নেতৃবৃন্দ। 

আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ফোন করে সাময়িকভাবে দুটি বাস চালুর প্রস্তাব দেন। তবে চাকসু নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দেন, স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না। এরপর উপাচার্যের পক্ষ থেকে আর কোনো সমাধান প্রস্তাব করা হয়নি বলে জানান তারা।

ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের এমন সাময়িক আশ্বাসের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী নাজিয়া ইসলাম মাওয়া জানান, গত চার মাসে যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। রেল ক্রসিং থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া ৭ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা, বাসের ৫ টাকা ভাড়াও এখন ১০ টাকা। গত ৫ সেপ্টেম্বর ট্রেন মিস হওয়ায় মুরাদপুর থেকে বাসে উঠতে গেলে চালক প্রথমে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড দেখানোর পরও ভাড়া ৩০ টাকা নিতে রাজি হননি। পরে পুরো ভাড়া ৪০ টাকা দিতে রাজি হলে তবেই তোলা হয় বাসে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা লিখেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠছি না। প্রয়োজনে সারারাত অবস্থান করব। কিন্তু দাবি মেনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত উঠব না ইনশাআল্লাহ।’

সোমবার রাতে সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেট ভাঙা, চক্রাকার বাস চালু এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যার সমাধানের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে আন্দোলন শুরু করে চাকসু। এসময় বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে সংহতি জানান। প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও প্রশাসনের কেউ সরাসরি উপস্থিত হননি। 

আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শিক্ষার্থীদের জন্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মূল ফটকে অবস্থান করবো।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত