টেনিস কোর্টে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মানেই জয়ের সুবাস পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান টেনিস বিশ্বে এই চিরচেনা সমীকরণটি সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন ঝেং কিনওয়েন। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে যেন এক অসম্ভবকে সম্ভব করলেন চীনের এই তারকা। পর পর দুই ম্যাচে ৫-০ তে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করার বিরল এক কীর্তি গড়লেন তিনি।
আগের ম্যাচে ম্যাডিসন কিসকে তাক লাগানোর পর, এবার ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে ছয়বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন ইগা সিওনতেককে সরাসরি সেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছেন প্যারিস অলিম্পিকের এই স্বর্ণজয়ী তারকা।
ম্যাচের শুরুটা একেবারেই নিজের মতো হয়নি ঝেংয়ের। গত বছর কনুইয়ের অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ চোটের ধকল কাটিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ শতকের বাইরে চলে যাওয়া ঝেং প্রথম সেটে খেই হারিয়ে বসেন। পোলিশ তারকা ইগা সিওনতেক দুর্দান্ত খেলে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং প্রথম সেট পকেটে পুরতে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে ছিলেন।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ান ঝেং। পরবর্তী ১৬ গেমের ১৩টিতেই আধিপত্য বিস্তার করে ৭-৫, ৬-৩ গেমের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেন তিনি। ২০২১ সালে এমা রাদুকানুর পর প্রথম কোয়ালিফায়ার হিসেবে ইউএস ওপেনের শেষ আটে পৌঁছে টেনিস দুনিয়ায় ঝড় তুলেছেন এই চাইনিজ সেনসেশন।
ম্যাচ শেষে অবিশ্বাস্য এই কামব্যাক এবং নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে ঝেং কিনওয়েন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শনিবারের মতো আজও ০-৫ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা কেবল ভাগ্যের জোর হতে পারে না। আমি শুধু প্রতিটি পয়েন্ট ধরে ধরে খেলার চেষ্টা করেছি। একটা পর্যায়ে তো স্কোরলাইনের হিসাবই ভুলে গিয়েছিলাম, কারণ আমি শুধু তখন প্রতিটি পয়েন্টে নিজের সেরাটা দিতে পুরোপুরি মনোযোগী ছিলাম।’
অন্যদিকে, ঝেংয়ের কাছে এমন অপ্রত্যাশিত হারের পর হতাশায় ভেঙে পড়া ইগা সিওনতেক সংবাদমাধ্যমকে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন। হয়তো আমার আরও একটু নিরাপদ খেলা উচিত ছিল, কিন্তু কিনওয়েনের বিপক্ষে কোর্টে আমি কোনো ফাঁক বা জায়গা খুঁজেই পাচ্ছিলাম না। আমি যদি তার চেয়ে বেশি কঠিন ও স্থিতিশীল হতে পারতাম, তবে হয়তো ম্যাচটা জিততে পারতাম; কিন্তু আমি যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না এবং অতিরিক্ত ভুল করেছি।’
কোয়ার্টার ফাইনালে এখন ঝেংয়ের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় বাছাই এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী কাজাখ তারকা ইয়েলেনা রিবাকিনা। ৫-০ তে পিছিয়ে থেকেও হার না মানা মানসিকতা নিয়ে খেলা ঝেং এখন পুরো টুর্নামেন্টেরই সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
কাজাখস্তানকে উড়িয়ে নারী হকি দলের হ্যাটট্রিক জয়