আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং এর জেরে জ্বালানি সরবরাহে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তার অবসানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। খবর সিবিএস নিউজ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে নভেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। অন্যদিকে, অক্টোবর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপরে।
দুই ধরনের তেলের দামই জুলাইয়ের শেষ দিকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। সে সময় ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। দেশটিতে সোমবার নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন ।
সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম 'দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমে যাবে'। ট্রাম্প এর আগেও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে কয়েক মাস ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরান মঙ্গলবার ভোরে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রলের দাম বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। গত ডিসেম্বরের পর এটি দেশটিতে পেট্রলের দাম বাড়ানোর দ্বিতীয় ঘটনা।
ইরানে জ্বালানির দাম বাড়ানো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এ ধরনের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়াতে পারে। ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে সরকারি দমন-পীড়নে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।