চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় সরকারি গাছ কেটে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশের একটি বিরোধপূর্ণ জমি বালি ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। গত রবিবার ভোররাতে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার বিকেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এটিএম হানিফ, বিএনপি নেতা আব্দুন নুর, মোহাম্মদ আবছার, জামায়াত কর্মী মো. আনিস ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুচ সোবহানসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে জায়গাটির সীমানা দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। পরে জমির পাশের সড়কের সরকারি জায়গায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির একাধিক গাছ কেটে ফেলে সেখানে বালি ফেলা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যে জায়গায় বালি ভরাট করা হয়েছে সেটি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে বালি ভরাটের ঘটনায় জায়গাটি জবরদখলের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনির সওদাগর বলেন, রবিবার গভীর রাতে আদনান ইমাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার জায়গার দেয়াল ভেঙে জমির পাশে থাকা সড়কের সরকারি বিভিন্ন প্রজাতির একাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর সেখানে জোরপূর্বক বালি ভরাট করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আদনান ইমাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্বপরিবারে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে জায়গার কেয়ারটেকারসহ স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা রাতের আঁধারে বালি ভরাট করে জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মনির সওদাগরের দাবি, আমার জানা মতে, যে জায়গায় রাতে বালি ভরাট করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকৃত মালিক আদনান ইমাম কিছুই জানেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জমি নিয়ে আরও একজনের সঙ্গে বিরোধ চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই রাতের বেলায় গোপনে বালি ভরাটের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি সড়কের জায়গা ও গাছ কেটে ব্যক্তিগত জমি সম্পসারণের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অনেকে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
এদিকে সরকারি গাছ কাটার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে জানিয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, সরকারি গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কাটা গাছগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অতি অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উজিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন