বাংলাদেশের বিশাল বাজারের প্রতি নজর জাপানি ব্যবসায়ীদের: জেটরো প্রধান

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

বাংলাদেশের বিশাল বাজার ধরতে জাপানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেটরো)-এর বাংলাদেশস্থ চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার দিন দিন বাড়ছে। এই বাজারকে লক্ষ্য করে জাপানের সাড়ে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পেও জাপানের বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেটরোর প্রধান আরও বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো ঢাকার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে, বিনিয়োগে আগ্রহী। বিনিয়োগ প্রসারে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সঙ্গেও কাজ করতে জাপান আগ্রহী বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঞ্চালনায় সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের এমডি মোহাম্মদ ইউসুফ এবং জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বক্তব্য দেন।

এ সময় চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুর, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্য, ডিটারজেন্ট ও পারসোনাল কসমেটিকস পণ্যেও জাপানি বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি চট্টগ্রামের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চল আগামীতে দেশের বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে। এ সম্ভাবনাকে টেকসইভাবে কাজে লাগিয়ে জাপানের মতো একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতও কাজ করছে।

তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য মেগা প্রকল্পের ন্যায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও এলএনজি খাতেও জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর প্রধানকে আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত