ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে ১০ ক্লাবের ছয় দফা দাবি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

ঘরোয়া ফুটবলের বিভিন্ন সমস্যা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় এবার একজোট হয়েছে দেশের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান ও আবাহনীসহ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) ১৩ দলের মধ্যে ১০টি ক্লাব যৌথভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে যৌথ চিঠি দিয়েছে ক্লাবগুলো। এতে স্বাক্ষর করেছে আবাহনী, মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, পিডব্লিউডি স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব, ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, সিটি ক্লাব ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিজ এফসি ও পুলিশ এফসি।

ক্লাবগুলোর অভিযোগ, প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর মতামত প্রতিফলিত হয় না। এর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় লিগ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এবার যৌথভাবে দাবি জানাতে মাঠে নেমেছে তারা। ক্লাবগুলোর এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে ছয়বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ও একবারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। যদিও এর আগে কয়েকটি ক্লাব আলাদাভাবে বর্তমান লিগ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিল, যৌথ চিঠিতে সেই দাবি রাখা হয়নি। বরং বিদ্যমান কমিটিতে ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 

জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও ক্যাম্পের কারণে আসন্ন মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে একাধিক বিরতি পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা ক্লাবগুলোর। তাদের মতে, দীর্ঘ বিরতিতে ম্যাচ আয়োজন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ম্যাচের ছন্দ ও মানসিক প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, ক্লাবগুলোকে বহন করতে হবে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়। এ কারণে বাফুফের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো।

ক্লাবগুলোর ছয় দফা দাবিগুলো হলো-

১. জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টের কারণে ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ থাকলে ক্লাবগুলোর যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—এ বিষয়ে আগে থেকেই বাফুফেকে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জানাতে হবে। ২. দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচের ছন্দ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ ক্লাবে ফিরলেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচগুলো বিরতিহীনভাবে আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো। ৩. ঢাকার বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলা ক্লাবগুলোর জন্য অন্যতম বড় সমস্যা। তাই দেশের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামকে ঘরোয়া ফুটবলের জন্য ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে তারা। ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামেও আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ক্লাবগুলো। ৪. প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে সব ক্লাবের প্রতিনিধি রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। এবারও সেই দাবিতে অনড় ক্লাবগুলো। তাদের মতে, ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং লিগ কমিটির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল হবে। ৫. যে কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও ব্যবস্থাপনা আগেভাগে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো। কোনো কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ স্থগিত বা সূচি পরিবর্তনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার কথাও বলেছে তারা। ৬. আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য অংশগ্রহণ ফি বা পার্টিসিপেশন মানি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্লাবগুলো। পাশাপাশি লিগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য প্রাইজমানি দেওয়ারও দাবি রয়েছে।

কয়েক দফা পেছানোর পর বাফুফে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছে। এর চার দিন পর শুরু হওয়ার কথা ফেডারেশন কাপের। তবে বাংলাদেশ অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসিয়ান কাপ খেলে ফিরবে। এরপর শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি। ফলে জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে ঘরোয়া ফুটবলের সূচি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আর্থিক ক্ষতি কমানোর নিশ্চয়তা চাইছে ক্লাবগুলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত