এনজোর ‘প্রথম’ অ্যাসিস্ট আর হালান্ডের জোড়ায় সিটির দাপট

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ পিএম

ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিজাত মঞ্চের নতুন মৌসুমে নাম লেখানোর রাতে কেবল মাঠের লড়াইয়েই নয়, মাঠের বাইরের নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ভরপুর এক ম্যাচ উপহার দিল ম্যানচেস্টার সিটি ও এফসি পোর্তো। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পর্তুগালের এস্তাদিও দো দ্রাগাও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটা দারুণ পেয়েছে এনজো মারেস্কার শিষ্যরা।

২০২১ সালে এই মাঠেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চেলসির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল সিটিজেনরা। পাঁচ বছর বাদে স্মৃতি বিজড়িত এই ভেন্যুতে ঝুম বৃষ্টির মাঝে এবার নতুন তারকা এনজো ফার্নান্দেজের অ্যাসিস্ট ও পুরনো নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের দুই দুর্দান্ত গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আকাশী-নীল শিবিরের দল। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের মধ্যকার হাতাহাতি এবং টানেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ম্যাচটিকে ভিন্ন এক মাত্রায় নিয়ে যায়। 

ম্যাচের প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে মার্ক গুয়েহির সঙ্গে পোর্তোর গাব্রি ভেইগার একটি সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিরতির সময় টানেলের ভেতর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সিকিউরিটি গার্ডদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমনকি সিটির ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ পোর্তো কোচ ফ্রান্সেসকো ফারিয়োলির দিকে হাত বাড়িয়ে দেন বলে জানা যায়।

ম্যাচ শেষে এই ঘটনায় উয়েফার শাস্তির শঙ্কা ও নিজেদের বেঞ্চের আচরণ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে সিটির কোচ এনজো মারেস্কা সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সম্ভবত [শাস্তি হতে পারে], তবে আপনি যা খুশি তা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু খেয়াল করুন, কতবার আপনি আমাকে বা আমার বেঞ্চের কাউকে কিংবা আমার সাথে কাজ করা ছেলেদের বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখেছেন? শূন্য, পুরো ৯৫ মিনিট ধরে। আর তাদের বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখুন কতবার এমন হয়!’ 

মাঠের ভেতরে প্রথমার্ধে পোর্তো গোলকিপার দিওগো কোস্তার অবিশ্বাস্য কিছু সেভ সিটিকে গোলবঞ্চিত রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডেডলক ভাঙেন হালান্ড। ৪৭ মিনিটে রায়ান শার্কির বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে এনজো দারুণ এক ক্রসে বক্সের ভেতর বল ফেলেন, আর সেখান থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে এগিয়ে নেন নরওয়েজিয়ান তারকা। রেকর্ড ট্রান্সফারে সিটিজেনদের ডেরায় নাম লেখানোর পর এটি এনজোর প্রথম অ্যাসিস্ট।

সেখান থেকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ইনজুরি সময়ে বদলি হিসেবে নামা রিয়ান আইত-নৌরির পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৫৯টিতে। 

ম্যাচ শেষে দলের জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেন, ‘অসাধারণ একটি ম্যাচ, পর্তুগালের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। আমাদের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই পারফর্ম করতে হবে এবং আমরা আজ রাতে সেটাই করেছি।’ 

এই ম্যাচে ১৮ বছর বয়সী মরক্কোর তরুণ তুর্কি আইয়ুব বুআদ্দিকে পূর্ণ অভিষেক করান কোচ মারেস্কা। অভিষেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করা এই তরুণ মিডফিল্ডারকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মজার ছলে হালান্ড আরও বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানকে (খালদুন আল-মোবারক) আগেই বলেছিলাম আমাদের দলে একটা রত্ন আছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তার আমাকে বল বাড়ানো উচিত ছিল, আমি একদম একা ছিলাম। আমি একটু রেগে গেছি, তাই এখনই তাকে বলব, তবে ওই একটা পাস ছাড়া সে দারুণ খেলেছে।’ 

এদিকে দলের নতুন তারকা মিডফিল্ডার এনজো সতীর্থ হালান্ডকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ বলেন, ‘ হালান্ড একজন দানব। আমি যখনই মাঠে খেলি, আমি তাকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি এবং আশা করি আমি তাকে আরও অনেক অ্যাসিস্ট দিতে পারব এবং সে এভাবে গোল করতে পারবে। এটি কেবল সে কেমন খেলোয়াড় সে বিষয়ে নয়, সে একজন অসাধারণ মানুষও বটে এবং ক্লাবে সে আমাকে দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে।’ 

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে পাবলো রোজারিওর একটি বাজে ট্যাকলকে কেন্দ্র করে মাঠে আবারও খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং পোর্তো কোচ ফারিয়োসি হলুদ কার্ড দেখেন। তবে সকল নাটকীয়তা ও মাঠের বাইরের উত্তাপ পেছনে ফেলে মারেস্কার দল ঠিকই কাঙ্ক্ষিত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত