যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ ফ্লাইট বিপর্যয়, ভোগান্তিতে অসংখ্য যাত্রী

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাটসের ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় ১,০০০ ফ্লাইট পর্যন্ত বাতিল হয়ে থাকতে পারে।

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর বুধবারও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিলম্ব অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। 

এই ঘটনায় কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাটসের ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় ১,০০০ ফ্লাইট পর্যন্ত বাতিল হয়ে থাকতে পারে।

ন্যাটসের প্রধান মার্টিন রোলফ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। ন্যাটসও বলেছে, সমস্যার সমাধান করতে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে।

বিমান উড্ডয়নের সুযোগ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় অবতরণও সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে আসার কথা থাকা কিছু ফ্লাইটও যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি।

সমস্যাটি শুধু যুক্তরাজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়ে। ইজিজেট প্রায় ২০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বাতিল করেছে ১০০টির বেশি ফ্লাইট। 

ন্যাটসের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় এর আগেও বিঘ্ন ঘটেছে। এবার প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলেছে রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ার। উইজ এয়ার বলেছে, বর্তমান অবস্থায় ন্যাটস 'উপযুক্তভাবে কাজ করার সক্ষমতা রাখে না'। 

ইউরোপের ব্যস্ততম এয়ারলাইন রায়ানএয়ার মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই সমস্যার কারণে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বের শিকার হয়েছেন।

ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রোতেও পরিস্থিতি ছিল গুরুতর। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সেখানে কিছু সময়ের জন্য সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়। পরে বিমান চলাচল আবার শুরু হলেও বিকেলে ফের বিঘ্ন দেখা দেয়। বিমান উড্ডয়ন করতে না পারায় হিথ্রোতে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং একপর্যায়ে বিমানবন্দরটিতে আগত ফ্লাইট রাখার জায়গাও ফুরিয়ে যায়।

 ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর জানিয়েছে, তারাও ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে সমস্যার মুখে পড়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজেদের ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত