দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ

ডব্লিউ.এইচ.ও-এর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চীনে তার সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়। গত ৩ জুলাই ডব্লিউ.এইচ.ও-কে দেওয়া এক চিঠিতে সায়মার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ এএম

দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউ.এইচ.ও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

রয়টার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউ.এইচ.ও-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে সংস্থাটি তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। একই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে।

ডব্লিউ.এইচ.ও-এর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চীনে তার সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়। গত ৩ জুলাই ডব্লিউ.এইচ.ও-কে দেওয়া এক চিঠিতে সায়মার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ডব্লিউ.এইচ.ও সায়মার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগও তুলেছে। তবে সায়মা জানিয়েছেন, ডব্লিউ.এইচ.ও-তে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন। তার দাবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী হন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ডব্লিউ.এইচ.ও-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের নেতৃত্বে সংস্থাটি তাকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এসব পরিস্থিতিতে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে চলমান বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ডব্লিউ.এইচ.ও সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একটি সূত্রের দাবি, আগামী ১২ অক্টোবর ওই পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে, ডিসেম্বরে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডব্লিউ.এইচ.ও-এর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে ডব্লিউ.এইচ.ও-এর নীতিমালা খাপ খাইয়ে নেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পাঁচ বছর মেয়াদে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোটে নির্বাচিত হন। এই অঞ্চলের সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতও রয়েছে।

এদিকে, চীনে সফরসংক্রান্ত প্রায় ৯০১ ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সায়মা ওয়াজেদ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের ভাষ্য, নিয়মিত ব্যয় ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়ায় তার একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছিল।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন সায়মা। তার দাবি, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এই যোগ্যতার বিষয়টি ডব্লিউ.এইচ.ও-এর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার পরিবারের ওপরও রাজনৈতিক ও আইনি চাপের প্রভাব আরও স্পষ্ট হলো। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার বহু রাজনৈতিক সহযোগীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত