‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারপ্রধান হয়েও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতেও ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ নির্দেশনা কেবল পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি বা পদকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাই যে মুখ্য এ দৃষ্টিভঙ্গিও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
অনলাইন হাজিরাতেও ব্যতিক্রম নন প্রধানমন্ত্রী : দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নজির তৈরি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার প্রমাণ রেখে অফিস ত্যাগ করছেন তিনি।
সরকারপ্রধান হয়েও নিজের ক্ষেত্রে সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এ উদ্যোগকে প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের আশা আরও স্পষ্ট হয়। বিশেষ সুবিধা বা আলাদা ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের মধ্যেই দায়িত্বপালনের দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে এ উদ্যোগকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমছে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, আড়ম্বর : দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া এসব ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।