শতকোটি টাকা আত্মসাতের প্রতারণা অভিযোগে ১২৪ মামলায় এজাহার নামীয় জেল পলাতক আসামি মো. আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ।
প্রযুক্তিগত পদ্ধতির সহায়তায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানা পুলিশ।
কুষ্টিয়া আদালত পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার আনিছকে আদালতে সৌপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
গ্রেপ্তার আনিছ ‘বিশ্বাস ফাউন্ডেশন’ নামে এনজিও শতাধিক শাখা খুলে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে দ্বিগুন মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে শতাধিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার রায়ে তার বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তিও হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে শতাধিক হাজতি ও দন্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি পালিয়ে যায়। পলাতকদের মধ্যে আনিছুর রহমানও ছিল বলে জানান ওসি।
গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত: ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৬ সালে উপজেলার আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘শ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’নামে একটি এনজিও চালু করে এই বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানায়, কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় কয়েকশ শাখা খোলেন আনিছ। জমাকৃত টাকার দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপিএসের নামে মোটা অংকের টাকা জমা নেন। একপর্যায়ে কয়েকশ কোটি টাকা জমা হলে তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ সম্পদ গড়ে তোলেন। এরপর থেকেই আনিছ আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে গা’ঢাকা দিতে থাকে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে আনিছের গা’ঢাকা দেয়ার বিষয়টি গ্রাহকের নজরে আসলে তারা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আনিছ অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। ২০২৪ সালের শুরু থেকেই কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার আদালতে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলার পাহাড় জমতে শুরু করে। ইতোমধ্যে ১২টি মামলার রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।
এদিকে আনিছের গ্রেপ্তার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হস্পতিবার সকাল থেকে কুমারখালী থানায় ভিড় জমান ভুক্তভোগীরা। এসময় পুলিশ ভুক্তভোগীদের আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন।
কুষ্টিয়া সড়র উপজেলার হরিপুরের মুদি দোকানী শাহজাহান সেখ (৬০) বলেন, আমার সারা জীবনের সঞ্চিত টাকা গরু বিক্রী থেকে আয় করা সাড়ে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিছের এনজিওতে। প্রথম প্রথম দুই তিন মাস মূল টাকা জমা রেখে লাভের কিছু টাকা দিয়েছিলো। এরপর হঠাৎ রাতের আঁধারে অফিস তালা দিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ওই ঘটনায় আমি আর মাজা সোজা করে দাঁড়াতে পারিনি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
কুমারখালী উপজেলা হাসিমপুর গ্রামের সুফিয়া খাতুনের অভিযোগ, চাকরির বেতন, বোনাস, জমি, গরু-ছাগল বিক্রি করে মোট প্রায় ২২ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিছকে। সব আত্মসাত করে পালিয়েছে। আনিছ এভাবে শত শত কোটি টাকা মারি দেছে’।