ব্যবসায়ীর মাটিচাপা লাশ

পাওনা টাকা চাওয়ায় ‘বন্ধুর হাতে খুন’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম

নিখোঁজের তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে রাজধানীর লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি (৩৮) নামে এক আবাসন ব্যবসায়ী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বন্ধু মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল যাত্রাবাড়ীতে মোবাইল নিয়ে বিরোধে খুন হয়েছেন রাব্বী (২৫) নামে এক যুবক। তার আগে বুধবার খিলগাঁও জিরানী খাল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ওই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে। তার নাম জজ মিয়া (৪৪)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার ভোরে লালবাগের ৯ নম্বর বি সি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রনি গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দায়ের করা নিখোঁজসংক্রান্ত জিডির তদন্তে নেমে বন্ধুর কারখানার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রনির বন্ধু ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাসুমকে আটক করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রনি ও মাসুম বন্ধু ছিলেন। রনি আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবার করতেন। ৮ মাস আগে মাসুম তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন, যার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে পাওনা সুদের টাকা ও জামানতের চেক আনতে মাসুমের কারখানায় যান রনি। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মাসুমের ঘুষিতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে গর্ত করে মাটিচাপা এবং তার ওপর সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া হয়। 

নিহতের শ্যালক মুরাদ হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রনিকে পাগলের মতো খুঁজছিলাম। শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মরদেহ পাওয়ার খবর শুনব, তা ভাবতেও পারিনি। রনিকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকা-ের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দার মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অতনু দে জানান, গতকাল ভোরে ছনটেক স্বপ্ন সুপার শপের সামনে রাস্তায় দুই যুবকের সঙ্গে রাব্বীর মোবাইল নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাব্বীর বুকে ছুরিকাঘাত করে ওই দুই যুবক পালিয়ে যায়। এতে রাব্বী ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এসআই আরও জানান, রাব্বীর বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নোয়াগাঁও গ্রামে। তিনি যাত্রাবাড়ী গোবিন্দপুর এলাকায় থাকতেন। তবে রাব্বীর নামে কদমতলী থানায় দুটি মাদক মামলা রয়েছে। ঘাতকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

খিলগাঁও খাল থেকে লাশ উদ্ধারের বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, গত বুধবার খিলগাঁও ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানী খালে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত পরিচয় পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিহতের নাম মো. জজ মিয়া বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে নেমে পুলিশ মো. আব্দুল্লাহ (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক জানায়, গত ৯ তারিখ জজ মিয়া মেরুল বাড্ডায় মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগ থেকেই আব্দুল্লাহসহ অন্য আসামীরা ওঁৎ পেতে থাকে। জজ মিয়া গ্যারেজে যেতেই চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সিএনজিযোগে জিরানী খালে লাশ ফেলে রাখে। জজ মিয়া তার এক সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ স্বীকার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত