জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ইতিপূর্বে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এর ফলাফল শিগগিরই দেখতে পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেছেন, জুলাই সনদে দাড়ি, কমা ও সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সম্পূর্ণটাই বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করেই তা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প কোনো পথ নেই। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার এই সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়।’ অতীতেও সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তা সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘বর্তমান সরকারও জাতীয় স্বার্থে সেই পথেই এগোবে।’ সংসদীয় কার্যক্রম ও বিল পাস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় অধিবেশন ৯টি কর্মদিবসে (২৭ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত ও পাস হয়েছে। এ ছাড়া কার্যপ্রণালির বিধি ৬৮-এ দুটি, বিধি ৭১-এ ১৪টি এবং দুই মিনিটের বক্তব্যে ১২৪টি নোটিসের ওপর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৫টিসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।’
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা আইনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত নতুন আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক বাবা-মা অসহায় বা বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য হন। জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে মিলিয়েই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও বিচারক, আইনজীবী, আন্তর্জাতিক অংশীজন ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে।’
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লংমার্চ করে বা তাৎক্ষণিকভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে।’
সরকারের আর্থিক খাতের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে সরকার আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ, কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুদ রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং অন্যান্য চুক্তি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকার এসব চুক্তি নিয়ে কাজ করছে এবং খুব দ্রুত এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। চুক্তিগুলোর আর্থিক দিক ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাউকে শত্রু নয়, সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।’
সংসদীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সংসদের ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টিতে বিরোধী দলের তিনজন এবং বাকিগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও আইন পাসের ক্ষেত্রে একপেশে পথে না হেঁটে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায়। প্রধানমন্ত্রী বারবার নিজেকে কেবল একটি দলের নয়, পুরো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন।’
এ সময় সংবাদকর্মীদের সরকারের ভুল ও সঠিক উভয় দিকই বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।