ময়মনসিংহ, উজিরপুর (বরিশাল), মুন্সীগঞ্জ ও পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম মো. সাদেক আলী (২৭)। আরেকজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আল আমিন।
উজিরপুর (বরিশাল) : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর ও কটকস্থল এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন মোটরসাইকেল চালক নিহত ও একজন আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুই সন্তানের জনক আরাফাত রহমান বাবু (৩২)। এ দুর্ঘটনায় আহত আসাদুল ইসলাম (৩১) আশোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।
অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মেহেদী হাসান তুরাগ (৩২)। তুরাগে বন্ধু জানিয়েছেন, রাতে তারা চার বন্ধু দুটি মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে বাবুগঞ্জের নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে গৌরনদীর কটকস্থল এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের সঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের সঙ্গে মোটর বাইকের ধাক্কা লেগে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম হৃদয় হোসেন (২৭)। এ সময় মোটর বাইকের অপর আরোহী মো. সাজ্জাদ (২৪) আহত হন। গতকাল সকালে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকার ধলেশ্বরী-১ সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক হৃদয় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর এলাকার প্রয়াত সায়েদ মিয়ার ছেলে। জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা অভিমুখে দ্রুত গতির মোটর বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধলেশ্বরী সেতুর ঢালে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে শাকিল (২২) নামে এক রোগী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ইউসুফ ও রুমা নামে দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে শহরের পায়রা পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল আমখোলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরিবাহের চর এলাকার আবুল কালাম সরদারের ছেলে। তিনি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করতেন।
শাকিলের মা হোসনেয়ারা বেগম জানান, বিষপানের পর শাকিলকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অ্যাম্বুলেন্সে তার মা, চাচিসহ ছয়জন ছিলেন। পায়রা পাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কুয়াকাটাগামী একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির সংঘর্ষ হয়। এতে শাকিল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাকের হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শাকিলের মৃত্যু হয়েছে।