পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বর্ষার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফ)-এর ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। এ সময় প্রথমে একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পর পর আরও দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাট এলাকায় নাফ নদে গোসল করতে নেমে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ উত্তর-পূর্ব পাড়ার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১৩) এবং একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আরজিন (১৫)। তারা দুজন একে-অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।
নরসিংদীতে নদীতে নেমে নিখোঁজ ৪ : নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে নারী ও শিশুসহ চারজনের নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে সকাল পর্যন্ত অভিযান স্থগিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
নিখোঁজরা হলেন, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়া থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মোসা. শান্তা (১৬), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার জুয়েলের ছেলে মো. শান্ত (২৪) ও নরসিংদীর শিবপুর থানার মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ (২০)।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, লাখপুর গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়িতে নিখোঁজ তিনজন বেড়াতে এসেছিলেন। বিকালে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তারা শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে সাঁতার না জানার কারণে নদীর প্রবল স্রোতে তিনজনই পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সময় তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে স্বজন সৌরভও নদীতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা নদীতে নেমেও কারও কোনো সন্ধান পাননি।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও কারও খোঁজ মেলেনি। সন্ধান না পাওয়ায় আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে ফায়ার সার্ভিস। শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের লিডার ইসলাম খান বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সকালে ভৈরব থেকে ডুবুরি দল এলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। শিবপুর থানার ওসি কোহিনূর মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিখোঁজ চারজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। সকালে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে।