দর্শক হৃদয়ে মুকুটহীন নবাব

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ এএম

ছাত্রজীবনে মঞ্চের আলোয় যার পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই আলোই একদিন তাকে পৌঁছে দেয় বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য শিখরে। তিনি আনোয়ার হোসেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব, যাকে দর্শক ভালোবেসে স্থান দিয়েছেন ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে। ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে চিরদিনের জন্য নেভে তার জীবনের আলো।

কলেজে পড়ার দিনগুলোতে ‘পদক্ষেপ’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের প্রতি এক গভীর অনুরাগ জন্মায় তার। কাজের সূত্রে ঢাকায় এসে যুক্ত হন নানা সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে। ননী দাসের পরিচালনায় ‘এক টুকরো জমি’ নাটক এবং ঢাকা বেতারের ‘হাতেম তাই’-এর ছোট একটি ভূমিকা তাকে ক্রমশ অভিনয়ের মূলধারায় নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে সহশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘মিনার্ভা থিয়েটার’, যা তার অভিনয়জীবনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ছবিতে খলচরিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। তবে সালাহউদ্দিনের ‘সূর্যস্নান’ ছবিতে তিনি আবির্ভূত হন নায়ক হিসেবে। এরপর ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিটি তাকে এনে দেয় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। নবাবের দেশপ্রেম, বেদনা ও আত্মত্যাগের করুণ দৃশ্য তিনি পর্দায় এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায় চিরতরে।

ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক থেকে শুরু করে শিশুতোষ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তার সাবলীল পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘লাঠিয়াল’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পালঙ্ক’ কিংবা ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে তিনি নিজের অভিনয় মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। চার দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি ঢালিউডকে সমৃদ্ধ করেছে। দর্শক হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন যুগের পর যুগ।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন নিগার পুরস্কার, একুশে পদক, বাচসাস পুরস্কার এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি ২০১০ সালে পান আজীবন সম্মাননা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত