দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে দিনব্যাপী ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ও অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সহযোগিতায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এ প্রচারণার আয়োজন করে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডে দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ড. শরীফ নাফে আস সাবের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিন এবং কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান। এরপর দুর্নীতিবিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। কুইজের পরে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা ‘অর্থ পাচার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ বিষয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ড. মাহমুদা পারভীন। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইয়েস গ্রুপের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সিভিক এনগেজমেন্টের কো-অর্ডিনেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, যারা অর্থ পাচার করে তারা সাধারণত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করতে চায় না। অর্থ পাচারের ফলে শুধু অর্থই দেশ থেকে চলে যায় না, এর সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সেবার সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে, একইসঙ্গে টাকা পাচার থামাতে হবে।’ মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এস এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত অর্থ পাচারের মাধ্যমগুলো বেড়ে যাচ্ছে এবং একইসঙ্গে অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। আংশিক প্রচেষ্টায় অর্থ পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ড. শরীফ নাফে আস সাবের বলেন, দুর্নীতি শুধু টাকা-পয়সার মাধ্যমে হয় না, বরং ক্ষমতার অপব্যবহারও দুর্নীতির অংশ। ব্যক্তিজীবনে আমরা যে কাজগুলো সঠিকভাবে করি না, সেগুলোও দুর্নীতির অংশ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। আলোচনা সভা শেষে বক্তৃতা প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাফিন। একইসঙ্গে তিনি দুর্নীতিবিরোধী কুইজ প্রতিযোগিতাতেও প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়। আলোচনা সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইউনুস রিফাত তালুকদার ও ইসরাত জাহান নুহি।
লেখক : শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ