শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট রিবাকিনার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

টুর্নামেন্টে এসেছিলেন বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে, আর নিউ ইয়র্ক ছাড়ছেন সিংহাসন ও মুকুট দুটোই নিজের করে নিয়ে। ফ্লাশিং মিডোজের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে দিলেন কাজাখস্তানের টেনিস সেনসেশন ইয়েলেনা রিবাকিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ফাইনালে রিবাকিনা ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে দেন গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ও শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কাকে। এর মধ্য দিয়ে এক রাতেই সাবালেঙ্কার কাছ থেকে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের ১ নম্বর আসন এবং ইউএস ওপেন দুটিই কেড়ে নিলেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।

এবারের ইউএস ওপেন রিবাকিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে অ্যাকিলিসের চোটে ভুগে কয়েক দিন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেননি তিনি। নিউ ইয়র্কে তার খেলা নিয়েই ছিল বড় শঙ্কা। তবে সমস্ত অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপকে পেছনে ফেলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। ম্যাচের শুরুতেই প্রথম সার্ভিসে কিছুটা সমস্যা হলেও বেসলাইন থেকে সাবালেঙ্কাকে চাপে রাখেন রিবাকিনা।

প্রথম সেট ৬-৪ গেমে জিতে এগিয়ে যান রিবাকিনা। দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান বেলারুশিয়ান তারকা সাবালেঙ্কা, ৭-৫ গেমে সেট জিতে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ধারণী সেটে। তবে তৃতীয় ও শেষ সেটে রিবাকিনা তার আগ্রাসী ও নিয়ন্ত্রিত টেনিস দিয়ে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেন। দ্রুত ব্রেক নিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজের ১২তম এ্যাস মেরে যখন জয় নিশ্চিত করেন, তখন দুই হাত উঁচুতে তুলে উল্লাসে ফেটে পড়েন রিবাকিনা। ম্যাচটি জিততে তার সময় লাগে ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট।

এই জয়ের ফলে রিবাকিনার ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো তৃতীয় গ্র্যান্ডসø্যাম এবং চলতি বছরের দ্বিতীয় মেজর ট্রফি। এর আগে মৌসুমের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও এই সাবালেঙ্কাকেই হারিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের উইম্বলডন জয়ী রিবাকিনা এখন ক্যারিয়ারে গ্র্যান্ডসø্যাম পূর্ণ করা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে তার ক্যাবিনেটে কেবল ফ্রেঞ্চ ওপেনের ট্রফিটাই অনুপস্থিত। এছাড়া ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর ইউএস ওপেনে সাবালেঙ্কার টানা ১৯ ম্যাচের জয়যাত্রাও থামিয়ে দিলেন রিবাকিনা।

টানা তৃতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন জিতে সেরেনা উইলিয়ামসের রেকর্ডে ভাগ বসানোর সোনালি সুযোগ ছিল সাবালেঙ্কার সামনে। তাছাড়া টানা ৯৯ সপ্তাহ ধরে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের ১ নম্বর আসনটি দখলে রাখা এই তারকা ফাইনালে হেরে গিয়ে মুষড়ে পড়েন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রানার্সআপের হতাশা লুকাতে পারেননি তিনি, চোখের জলে বিদায় নেন কোর্ট থেকে। ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা রসিকতা করে বলেন, ‘আমার ১ নম্বর স্থানে থাকা ৯৯ সপ্তাহ সত্যিই দারুণ এক অর্জন। দেখা যাক, ইয়েলেনা আমার এই রেকর্ড ভাঙতে পারে কি না! সে যদি এভাবে খেলতে থাকে, তবে আমি নিশ্চিত বিপদে আছি।’

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিবাকিনা বলেন, ‘কী ঘটেছে, এখনো তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক বড় অর্জন ধরা দিয়েছে। আমি আমার পরিশ্রমের জন্য গর্বিত। শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন, তবে আমি ভীষণ আনন্দিত।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত