ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখের বেশি চকলেট বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ইমরান হোসাইন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, সৌহার্দ্য তৈরি এবং ক্যাম্পাসে মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ উদ্যোগ চালিয়ে আসছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বস্তাভর্তি চকলেট নিয়ে ইমরানের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি নিজেই এক লাখ চকলেট বিতরণের তথ্য জানান।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই সহপাঠীদের মধ্যে চকলেট বিতরণ করতেন ইমরান। পরে জুনিয়রদেরও এ উপহার দিতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগের কারণে ক্যাম্পাসে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, অথচ চকলেট পাননি—এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন। এখনো তিনি পকেটে চকলেট নিয়ে চলাফেরা করেন এবং পরিচিত-অপরিচিত শিক্ষার্থীদের হাতে তা তুলে দেন।
ইমরান হোসাইন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং ভালোবাসার ছোট্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই চকলেট বিতরণের উদ্যোগ শুরু করি।’
তিনি বলেন, ‘একটি চকলেট হয়তো খুব ছোট উপহার। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও আনন্দের একটি মুহূর্ত। ব্যস্ত ক্যাম্পাসজীবনে শিক্ষার্থীদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানো এবং অপরিচিত মানুষের মধ্যেও সৌহার্দ্য তৈরি করাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।’
শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের মানুষের হাতে সরাসরি চকলেট তুলে দিয়ে ‘ভালো থাকুন, হাসিখুশি থাকুন’—এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল উদ্যোগটির মূল ভাবনা বলে জানান তিনি।
এক লাখ চকলেট বিতরণকে নিজের জন্য আনন্দের মাইলফলক উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘প্রতিটি চকলেট আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে, আর প্রতিটি হাসিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি চকলেট হয়তো কারও বড় কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। কিন্তু এটি একটি সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করতে পারে। কখনো কখনো একটি সুন্দর মুহূর্তই মানুষের পুরো দিনটিকে বদলে দিতে পারে।’
ইমরানের ভাষায়, ‘পরিবর্তন সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু হয় না। কখনো একটি ছোট্ট চকলেট, একটি হাসি কিংবা আন্তরিক শুভেচ্ছাই হতে পারে সুন্দর কিছু করার প্রথম পদক্ষেপ।’