সরকার ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গতকাল রবিবার ঢাকায় এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকলে ভালো হয়। আমরা (সরকার) আমাদের সম্পর্ক পুনর্বিন্যস্ত (রিসেট) করতে চাই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে গত ১৫ বছর যে ঝামেলাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, এটা থেকে বের হয়ে নতুন দিকে সম্পর্ক নিতে ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর দ্বিপক্ষীয়ভিত্তিতে হওয়া উচিত; কেবল বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণ নয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি পুনর্নিরীক্ষণ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের প্রধান হুইপ যে তথ্য দিয়ে দিয়েছেন, সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তিগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। সেখানে ইউএনজিএর ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ‘ভারত নিয়ে মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসার’ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভারত ‘কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ’, যার সঙ্গে সরকার ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চায়। তাই বলে সব সময় কেবল ভারতের কথা ভাবলে চলবে না। দ্বিপক্ষীয়ভিত্তিতে ও বহুপক্ষীয় আয়োজনে যখন যার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন, সরকার সেটা করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে ইতিপূর্বে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সম্প্রতি পদত্যাগ করায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে সরকার নতুন প্রার্থী দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, সরকার এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে সমর্থন করবে; যেমন ডব্লিউএইচওতে মালদ্বীপের প্রার্থীর কথা ভাবা যেতে পারে; যার ভালো ট্র্যাক রেকর্ড ও যোগ্যতা রয়েছে।
পুতুল হিসেবে পরিচিত সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র কন্যা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগটিই ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত। এমন একটি উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কিছুই ছিল না। স্বৈরাচারী আমলে জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও প্রভাব খাটিয়ে তাকে ওই পদে বসানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করা উচিত, এমন মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল রাজপরিবার বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কাউকে এত বড় পদে বসানো উচিত নয়।’