পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বারেককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও তার বসতঘরের পেছনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামের মানিক বয়াতির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বারেক দীর্ঘদিন ধরে মানিক বয়াতির মেয়ে আয়েশাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি তরুণীকে বাড়ির পেছনের আসতে বলেন। এ সময় সন্দেহজনক শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা টর্চলাইটের আলো ফেললে বারেক পালানোর চেষ্টা করেন। দৌঁড়াতে গিয়ে তিনি পাশের টিনের বেড়া ও সার রাখা গর্তে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে আটক করে।
পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মানিক বয়াতির বসতঘরে নিয়ে পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা দুমকি থানায় খবর দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন নিজেও ঘটনাস্থলে যান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বারেক মেম্বর নিয়মিত ওই তরুণীকে মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিতেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও তাদের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই শিকল পরা অবস্থায় ইউপি সদস্যকে আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঘটনাস্থল ও থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করে।
দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।