ধস নামল এআই শেয়ারবাজারে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা সতর্ক করার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এতে এমন একটি শিল্প নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা লেগেছে, যার বিপুল অবকাঠামো ব্যয় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব পুঁজিবাজারকে রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্সের। 

এআই শিল্পের এই বিক্রয়চাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চাভিলাষী এআই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলো ক্রমেই ঋণ ও পারস্পরিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, বহু বছরের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে থাকা বন্ডের সুদহার বৈশ্বিক ঋণ নেওয়ার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রবন্ধে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানোর আহ্বান জানান। প্রযুক্তিটির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এআই কোম্পানিগুলোর আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও আমোদেইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

অল্টম্যান আরও জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই এ বছর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না।

ওয়াল স্ট্রিটে এআই উত্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে। সোমবার লেনদেনের শুরুতে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক-১০০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। পরে অবশ্য লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিয়ে সূচকটি দুপুরের দিকে প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ নিচে অবস্থান করছিল।

ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের প্রধান বাজার বিশ্লেষক স্টিভ সোসনিক বলেন, এআই ব্যয়ের গতি কমে গেলে বা কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে শুরু করলে এর প্রভাব অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে পড়তে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতে বিপুল ব্যয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের উত্থান হয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাতের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ পড়ে যায়। এনভিডিয়ার শেয়ার কমে ৩ শতাংশ, এএমডি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাইক্রন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হারায়। সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম নির্মাতা ল্যাম রিসার্চ ও অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস এবং প্রযুক্তি-নির্ভর বিদ্যুৎ কোম্পানি ব্লুম এনার্জির শেয়ারও ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।

ইউরোপেও প্রযুক্তি খাতে চাপ দেখা গেছে। সেখানে প্রযুক্তি খাতের সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। চিপ নির্মাণ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী এএসএমএলের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় খাতটি বড় ধাক্কা খায়। ইনফিনিয়ন ও সিমেন্স এনার্জির শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এশিয়ায় জাপানের সফটব্যাংকের শেয়ার ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। তাইওয়ানের টিএসএমসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের শেয়ারও কমেছে।

এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নতুন বিধিনিষেধের আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের আলোচনাকারীরা এমন একটি আইন নিয়ে আলোচনা করছেন, যার আওতায় এআই কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে তারা প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

তবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগকে ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেটা সেন্টার নির্মাণও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মোচনের পর থেকে এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের মাধ্যমে সাইবার হামলা এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এই শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বিরোধিতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত