প্রায় চার বছর থেকে নেই মেডিকেল চিকিৎসক। দেড় যুগ ধরে ১৭টি পদের মধ্যে ৮টিই শূন্য, দুই মাস থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ, বেতন বন্ধ কর্মরত, ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন রোগিরা
নানা সংকটে ভুগছে গাইবান্ধার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা। প্রতিষ্ঠানটির দেড় যুগ ধরে প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন মেডিকেল অফিসারও নেই। দুই মাস থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। প্রশাসনিক কাজের জটিলতায় আটকে আছে হাসপাতালে কর্মরতদের বেতন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, যক্ষারোগ চিকিৎসাগার (বক্ষব্যাধি ক্লিনিক)কে মোট স্টাফ থাকার কথা ১৭ জন। বর্তমানে আছে ৯ জন। এরমধ্যে ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল অফিসার নেই। চলতি বছরের ১৯ জুলাই থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্টও শুন্য। বর্তমানে হাসপাতালে কোন চিকিৎসক কর্মরত নেই। ফলে রোগিদের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে হাসপাতালে কর্মরত লোকবলের বেতন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুইবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে সেবা নিতে আসেন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন। চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় সেবাপ্রার্থীদের।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের ভোগান্তির চিত্র। কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজ করছেন। অনেকেই গল্প করে সময় পার করছেন। বাইরে থেকে রোগিরা আসছেন, কিন্তু চিকিৎসক নেই। সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। কর্মচারিরা জানান, একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন মেডিকেল অফিসার ও দুজন সহকারি নার্স থাকার কথা কিন্তু একজনও নেই। রোগিদের ওষুধ লেখবে কে? গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ওষুধ নেওয়া হয়নি। ফলে টোটাল ওষুধ সরবরাহ বন্ধ। দীর্ঘদিন থেকে ফিল্ম অভাবে বন্ধ রয়েছে এক্সরে মেশিন। এখানে কফ পরীক্ষা ছাড়া প্যাথলজির আর কোনো পরীক্ষা হয় না।
এছাড়া যক্ষা হাসপাতালে ১৬ বছর থেকে নেই অফিস সহকারী, সহকারি নার্স, গৃহপরিদর্শীকা, পরিচ্ছিন্নকর্মীও। তীব্র জনবল সংকট। বেহাল দশা হাসপাতাল ভবনেরও।
চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার পূর্বপাড়ার আমিনা বেগম (৮০) বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছিলাম।এসে জানতে পারলাম এখানে চিকিৎসক নেই। পরীক্ষা করাতে কফ দিয়েছি। এখন যদি আমার যক্ষা রোগ পজেটিভ আসে। কাকে দেখাবো। এখানে তো কোনো যক্ষা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই।
হাসপাতালে আসা রোগী ফুলছড়ি গ্রামের আমজাদ মিয়া (৫৬) বলেন, প্রায় দুইদিন আসলাম ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু কোনো ডাক্তারের দেখা পেলাম না। দুইজন ডাক্তার থাকার কথা,একজনও নেই। ডাক্তার থাকলে আমাদের এই সমস্যা হতো না। সরকারের দাবি, এখানে অল্প সময়ের মধ্যে এক যক্ষা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেওয়া হোক।
সুন্দরজাহান মোড়ের আনোয়ার মিয়া (৩৪) বলেন, আগে এখানে অনেক রোগের ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু প্রায় দুই মাস থেকে আসি ওষুধ পাচ্ছি না।
জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা বেগম বলেন,পুরনো সেই জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা। জনসংখ্যা বাড়ছে। মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে অন্তত একজন যক্ষা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, কয়েকজন নার্স ও পরিচ্ছন্নকর্মীসহ অন্যান্য জনবলও থাকা খুবই প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ও আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কিছু কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।