চট্টগ্রামে কথিত শ্রমিক নেতাদের অনৈতিক তদবিরে অতিষ্ঠ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেলের কর্মকর্তারা। অভিযোগ আছে, শ্রমিক ফেডারেশনের নামধারী কতিপয় নেতা উক্ত দপ্তর থেকে সুবিধা আদায় করতে না পেরে বিআরটিএর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে বিআরটিএর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ করেন তারা।
এদিকে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী অটোরিকশা শ্রমিকদল চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
শ্রমিকদল নেতা নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের একজন শ্রমিকলীগ নেতার ইন্ধনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন নামে ও বেনামে বিআরটিএ, চট্টগ্রাম কার্যালয় এবং এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিঠি দেওয়া ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়াসহ ফেসবুকে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও সুবিধাবাদী চক্র চট্টগ্রামে বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন।
জানা গেছে, বিআরটিএর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কাজীর দেউড়ির একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে আয়োজকদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করলে তারা সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বেশ কিছু দাবির বিষয়ে অভিযোগকারীদের কাছেই পর্যাপ্ত তথ্য বা স্পষ্ট ধারণা নেই।
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলনের স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন আয়োজকদের কয়েকজন। ফলে সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।