রহস্যময় জলাশয় ‘মাতাই পুখিরি’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম

পাহাড়, ঝর্ণা, গুহা, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অগাধ ভা-ারে সমৃদ্ধ খাগড়াছড়ি। শুধু প্রাকৃতিক নৈসর্গ নয়, ঐতিহাসিক গভীরতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে অনন্য জেলাটি। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত কখনো ত্রিপুরা আবার কখনো আরাকান রাজাদের অধীন ছিল খাগড়াছড়ি। ত্রিপুরার রাজারা প্রায় ৪০০ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রাম অঞ্চল শাসন করেছেন। খাগড়াছড়ির নূনছড়ি পাহাড়ের চূড়ায়

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা রহস্যময় জলাশয় ‘মাতাই পুখিরি’। স্থানীয় ত্রিপুরা উপজাতিদের কাছে এটি ‘দেবতার লেক’ হিসাবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায় লেকটির অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরা উপজাতিরা লেকটিকে ‘পবিত্র স্থান’ হিসেবে মনে করেন। পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত হলেও  লেকটির পানি কখনো শুকায় না। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, এখানে অলৌকিক অনেক কিছু বিশ^াস করা হয়। যে কারণে তাকে বলে ‘দেবতার লেক’ বা ‘দেবতার পুকুর’। কথিত আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ‘জল দেবতা’ স্বয়ং পুকুরটি খনন করেন। এই পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আশীর্বাদ মনে করেন।  প্রচলিত আছে, পুকুরটি কোন এক দেবতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এর তলায় অনেক গুপ্তধন লুকিয়ে আছে। যেটি দেবতারা পাহারা দিচ্ছে। অনেকের ধারণা, এখানে এসে কিছু চাইলে পূরণ হয়। যে কারণে বছরের সবসময়  দেশ-বিদেশের মানুষরা এখানে ভিড় করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এর পানি কখনো পরিষ্কার করতে হয় না প্রাকৃতিকভাবে এটি স্বচ্ছ থাকে। তবে অনেকে মনে করেন, এখানে অলৌকিক বলে কিছু নেই। যা বলা হয়, তার পুরোটা অন্ধবিশ^াস।  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত