বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও সরকারি নথি নিয়ে কারসাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, পর্চা তুলতে হাজার হাজার টাকা দাবি করা হয়, টাকা দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইচলাদি মৌজার এসএ ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে নগদ একলাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করা হয়েছে। বিভিন্ন খতিয়ানে তহশীলদারের স্বাক্ষর ও সিল ছাড়াই হাতে লেখা তথ্য পোস্টিং এবং নগদ দুই লাখ টাকা চুক্তিতে জেএল ৯২ নম্বর উজিরপুর মৌজার এসএ ১২৪ নম্বর খতিয়ানের নথি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সেবা প্রত্যাশীদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাও অনেকটা নীরব। সানজিদার প্রভাবের কারণে তিনিও বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছেন না। অপরদিকে সানজিদার স্কুল সার্টিফিকেটেও জালিয়াতির আভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বরও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম সানজিদার কথা মত কাজের রিপোর্ট না প্রদান করায় দুর্ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে সকল কাজ তার পরামর্শমত করতে নির্দেশ দেন সানজিদা।
এদিকে সানজিদাকে একাধিকবার বদলির অর্ডার হলেও তা অদৃশ্য ইশারায় কার্যকর না হওয়ায় এবং একই অফিসে দীর্ঘ দিন থাকায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। কার প্রভাব বা তদবিরে বদলি আটকে যাচ্ছে না নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী সুজা বলেন, “শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগের কথা শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহকে একাধিক বার ফোন ও ম্যাসেজ করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস সহায়ক সানজিদার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর তাড়াশের উলুপুর দিঘি