জার্মানির ৪৪ জনের দুটি আলাদা দল ঘোষণা ক্লপের, ১৬ নতুন মুখ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

লিভারপুলের ডাগআউট ছেড়ে জার্মানির জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের মেজাজ ও ব্যতিক্রমী ভাবনা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। দলটির নতুন কোচ হিসেবে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোর জন্য এবার একেবারে ভিন্নধর্মী এক সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিজ্ঞ জার্মান কোচ।

আসন্ন নেশনস লিগের ম্যাচগুলোর জন্য তিনি একসঙ্গে ৪৪ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছেন এবং পুরো স্কোয়াডটিকে দুটি আলাদা দলে ভাগ করেছেন, যার মধ্যে ১৬ জন খেলোয়াড়ই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেলেন।

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জার্মান ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে দলের মেলবন্ধন তৈরি করতে চান ক্লপ। সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই বিশাল স্কোয়াড গঠনের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে কাছ থেকে জানতে চাই। এখানে কোনো এ বা বি টিম নেই। স্কোয়াডগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা মাঠে এবং চরিত্র ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে যৌক্তিক হয়।’ 

ফিফার নতুন নিয়মে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আন্তর্জাতিক বিরতি একসঙ্গে হওয়ায় এই অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন ক্লপ। এই স্কোয়াডের মাধ্যমে মূলত ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। নেদারল্যান্ডস, গ্রিস ও সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের এই লম্বা সূচিতে কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা কিংবা ফ্লোরিয়ান ভির্টজদের কাজের চাপ কমাতে তাদের ভিন্ন ম্যাচে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এদিকে ম্যানুয়েল নয়্যার অবসরের পর আয়াক্সের মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনকে নিজেদের স্পষ্ট এক নম্বর গোলরক্ষক ঘোষণা করে ক্লপ বলেন, ‘মার্ক-আন্দ্রেকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। তার সঠিক মাত্রার অভিজ্ঞতা আছে। সে এমন একজন গোলরক্ষক যে পায়ে বল রেখে খেলতে পারে এবং দারুণ শট স্টপার।’ 

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি জার্মানিতে জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেম নিয়ে ক্লপের একটি মন্তব্য ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না ভবিষ্যতে সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হোক, তবে আমার ক্রীড়া দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে আমি আমাদের পতাকাটি আবার ফিরিয়ে আনতে চাই। আমি চাই আমরা যেন এমনভাবে পতাকা ওড়াই যাতে কারও মনে এই প্রশ্ন না জাগে যে‘তোমার সমস্যা কী?’ বরং মানুষ যেন অনুভব করতে পারে যে এই দেশে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা বা এখানে আসতে পারাটা কতটা ভাগ্যের।’ 

তবে এত বড় পরিবর্তনের ধাক্কাও লেগেছে দলে। এবারের নেশনস লিগের লিগ পর্বে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচের আগে মধ্যরাতের মধ্যে ২৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা জমা দিতে হবে দলগুলোকে, যদিও ম্যাচগুলোর মাঝে খেলোয়াড় বদল করার সুযোগ রয়েছে। এমন নিয়মের বেড়াজালেও কোচ ক্লপের এই প্রথম স্কোয়াডে জায়গা পাননি তারকা ফরোয়ার্ড দেনিজ উন্দাভ, যিনি গত বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন (যদিও শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে এবং সেই ব্যর্থতার পরই কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের অধ্যায় শেষ হয়)।

এছাড়া গ্যালাতাসারাইর উইঙ্গার লেরয় সানেও বাদ পড়েছেন, যার ফলে জার্মানির জার্সিতে তার ৮০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে আপাতত আর কোনো নতুন ক্যাপ যোগ হচ্ছে না।

আসন্ন সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে জার্মানি। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রিস, ১ অক্টোবর সার্বিয়া এবং ৪ অক্টোবর আবার গ্রিসের মুখোমুখি হবে ক্লপের দল।

জার্মানির ৪৪ সদস্যের স্কোয়াড:

১ম স্কোয়াড (নেদারল্যান্ডস ও গ্রিসের (হোম) বিপক্ষে ম্যাচগুলোর জন্য):

গোলরক্ষক: মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন (আয়াক্স), আলেকজান্ডার নুবেল (স্টুটগার্ট), ফিন ডাহমেন (আউগসবুর্গ)।

ডিফেন্ডার: হেনেসবেরেন্স (আউগসবুর্গ), ম্যাক্স রোসেনফেল্ডার (ফ্রেইবার্গ), ফিলিপ ট্রয় (ফ্রেইবার্গ), জোনাথান তাহ (বায়েস্টার মিউনিখ), নিকো শ্লটারবেক (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), নাথানিয়েল ব্রাউন (বায়ার্ন মিউনিখ), যোশা ভ্যাগনম্যান (স্টুটগার্ট), ইয়ান অরেল বিসেক (ইন্টার মিলান)।

মিডফিল্ডার: জশুয়া কিমিখ (অধিনায়ক, বায়ার্ন মিউনিখ), নাদিম আমিরি (মেইনৎস), ইয়ানিক এঙ্গেলহার্ডট (ফ্রেইবার্গ), ফেলিক্স এনমেচা (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), আন্তন স্টাখ (লিডস)।

ফরোয়ার্ড: বামবাসে কন্তে (হফেনহাইম), কাই হাভার্টজ (আর্সেনাল), ক্রিস ফুডরিখ (স্টুটগার্ট), জামাল মুসিয়ালা (বায়ার্ন মিউনিখ),লেনার্ড কার্ল (বায়ার্ন মিউনিখ), ইউনেস ইবনৌতালিব (আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), সার্জ গানাবরি (বায়ার্ন মিউনিখ), কেভিন শাদে (ব্রেন্টফোর্ড)।

২য় স্কোয়াড (সার্বিয়া ও গ্রিসের (অ্যাওয়ে) বিপক্ষে ম্যাচগুলোর জন্য):

গোলরক্ষক: নোয়া আতুবোলু (আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), ফিন ডাহমেন (আউগসবুর্গ), জোনাস উরবিগ (বায়ার্ন মিউনিখ)।

ডিফেন্ডার: ভালদেমার আন্তন (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), রিডলে বাকু (আরবি লাইপজিগ), ফিন জেল্টশ (স্টুটগার্ট), ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটেলস্টেডট (স্টুটগার্ট), ডেভিড রাউম (আরবি লাইপজিগ), মালিক থিয়াও (নিউকাসল)।

মিডফিল্ডার: মিকা বাউর (সেল্টিক), টম বিশফ (বায়ার্ন মিউনিখ), ভিটালি ইয়ানেল্ট (ব্রেন্টফোর্ড), ফেলিক্স কেইডেল (এলভার্সবার্গ), আলেকসান্দার পাভলোভিচ (বায়ার্ন মিউনিখ)।

ফরোয়ার্ড: জোনাথান বার্কার্ডট (আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), নিক ওলতেমাদে (জুভেন্টাস), করিম আদিয়েমি (বার্সেলোনা), সাঈদ এল মালা (কোলন), ব্রায়ান গ্রুডা (আরবি লাইপজিগ), ফ্লোরিয়ান ভির্টজ (লিভারপুল), ডেরি শেরহান্ট (ফ্রেইবার্গ)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত