৪৬ লাখ মামলায় মাত্র ২,৪০০ বিচারক, সমাধানের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, অনলাইনে সংঘটিত পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

মানবপাচারকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর ও অমানবিক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি প্রতিরোধে আইন আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’ শীর্ষক এ আয়োজনে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মানবপাচার প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন সংশোধনের পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। মানবপাচারের সংজ্ঞাও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, অনলাইনে সংঘটিত পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ মানবপাচারবিষয়ক প্রোটোকল অনুমোদন করেছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে মামলা পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল সংকট, অভিযোগকারীদের সহযোগিতার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, এর জন্য বিচারকদের দোষারোপ করা যায় না। এটি বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন। বিপরীতে বিচারকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকার কাজ করছে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জীবিকা ও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মানুষকে বিদেশে যাওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত রাখা সম্ভব নয়। তবে বিদেশে গিয়ে অনিয়মিত অভিবাসীতে পরিণত হয়ে অনেক বাংলাদেশি নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদেরও আইনগত সহায়তা দিচ্ছে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রয়োজন হলে এ সহায়তা নিতে পারবেন। এ জন্য লিগ্যাল এইডের হটলাইনও রয়েছে।

নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের গঠনমূলক পরামর্শকে সরকার স্বাগত জানায়। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

মাদক অপরাধ মোকাবিলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশোধিত আইন মাদকসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার পুলিশের পৃথক সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে। অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, ইউএনওডিসি এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত