প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতাকারী শকুন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ এএম

শকুনের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত তীক্ষ। এর প্রধান কারণ চোখের বিশেষ জৈবিক গঠন। তাদের চোখের রেটিনায় আলো-সংবেদনশীল কোণ ও রড কোষের ঘনত্ব, মানুষের চোখের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণে, অনেক দূর থেকে ক্ষুদ্র জিনিস তারা পরিষ্কার দেখে। এদের চোখের রেটিনায় ‘ফোভেয়া’ নামের বিশেষ দুটি অংশ আছে। সেটি অত্যন্ত নিখুঁত ও জুম করার দৃষ্টিশক্তি দেয়। এদের ঠোঁট ও নখর ধারালো হলেও, হিংস্র নয়। তারাই পরিবেশের ‘প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতাকারী’। কারণ এরা মৃত প্রাণীর দেহ ভক্ষণ করে, যা বিভিন্ন রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচায়। লাইভ সায়েন্সের মতে, এক ঝাঁক ‘গ্রিফন শকুন’ ৪০-৫০ মিনিটের মধ্যে মৃত মানুষের দেহ খেয়ে  শেষ করতে পারে। এ জন্য আবার অনেকে তাদের ‘প্রকৃতির সাফাইকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। কারণ তারা যেখানে মৃতদেহ দেখে, সেটা দ্রুত খেয়ে পরিষ্কার করে ফেলে। আগের মতো মাঠে-ময়দানে বা জঙ্গলে মৃত পশুর দেখা পাওয়া এখন অনেক কঠিন। এর ফলে তারা খাদ্যের অভাবে নিয়মিত মারা যাচ্ছে। শকুন না থাকলে মৃত পশুর দেহ দ্রুত পচে মারাত্মক রোগ-জীবাণু ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ত। এর ফলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেত, মানবস্বাস্থ্য ও প্রকৃতির ভারসাম্য। শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার মূল কারণ, ‘ডাইক্লোফেনাক’ নামের ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার। কোনো পশু এটি খাওয়ার পর মারা গেলে এবং সেই পশুর মাংস শকুন খেলে কিডনি বিকল হয়ে মারা যায়। সাধারণভাবে তারা ২৫-৩০ বছর বাঁচে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত