হঠাৎ ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ এএম

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (≥140/90 mm Hg), যা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি বিকলের প্রধান কারণ; এর লক্ষণগুলো হলো মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দৃষ্টি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় এবং অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, সবাই ওষুধ খান না। যারা ওষুধ খান তাদের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ রোগীর প্রেশার নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকে নির্ধারিত ওষুধের কম খেয়ে থাকেন এবং প্রেশার মাপেনও না।

হাইপাটেনসিভ ইমার্জেন্সি : > 180/120 mm of Hg  বা তার বেশি সঙ্গে অঙ্গের ক্ষতি হলে। ১ থেকে ২% প্রেশার রোগী হঠাৎ করে প্রেশার অত্যধিক (১৮০/১২০)-এর বেশি বেড়ে যেতে পারে। যাদের আগে কখনো প্রেশার ধরা পড়েনি তাদেরও কারও কারও এ অবস্থা হতে পারে।

কেন হঠাৎ বেশি বেড়ে যায় : প্রেশারের ওষুধ খেতে ভুলে গেলে। প্রেশারের ওষুধ হঠাৎ করে খাওয়া বন্ধ করে দিলে। বিটা ব্লকার জাতীয় ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করে দিলে। কেফেইন জাতীয় ওষুধ খেলে। অত্যধিক টেনশন, অত্যধিক পরিশ্রমের কারণে। উচ্চ রক্তচাপের গুরুতর জটিলতা হলো হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, এনিউরিজম, স্ট্রোক।

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ

          মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া বা বেঁকে যাওয়া।

          হঠাৎ করে শরীরের একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ লাগা।

          কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট কথা বলা বা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া। কিডনির রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিডনি রক্ত ফিল্টার করার ক্ষমতা হারায় কিডনি ফেইলুরের দিকে ধাবিত হয়।

          উচ্চ রক্তচাপ চোখের পেছনের আলো-সংবেদনশীল টিস্যু-রেটিনার রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি এবং ভাষার দক্ষতা হ্রাস করে।

          হাইপারটেনসিভ এনসেফালোপ্যাথি হলো উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় হঠাৎ ব্যাঘাত ঘটে, এতে তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং চেতনা হ্রাস পেতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি বা কোমা হতে পারে।

চিকিৎসা : দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন তাড়াতাড়ি হাসপাতালে সম্ভব হলে ওঈট-তে ভর্তি হয়ে ওঠ (শিরাপথে) ওষুধের মাধ্যমে প্রথম ১-২ ঘণ্টায় রক্তচাপ ২০-২৫% কমানো। প্রেশার কমে গেলে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিতে হবে।

ব্লাডপ্রেশার মনিটরিং। কোনো কোনো অঙ্গের ক্ষতি হলে তার চিকিৎসা দেওয়া।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত