মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার ননদ চামেলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বড়লেখা থানা পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে চামেলীকে গ্রেপ্তার করে।
গত ২১ আগস্ট বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মকবুল আলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা রেনু বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।
মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এজাহারে নির্যাতনের অডিও-ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার রাতে চামেলীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে।