স্বামীর মৃত্যুর পর চায়ের দোকানই মাতুয়ারার ভরসা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে ছোট্ট একটি ঢোপঘরকে অবলম্বন করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন মাতুয়ারা বেওয়া। নিজের বলতে তেমন কিছু নেই। লালপুরের বিলমাড়ীয়া-ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের চকবাদকয়া মোড়ে ছোট্ট সেই ঘরটিতে পথচারীদের কাছে চা-বিস্কুট বিক্রি করেই চলছে তার সংসার।

ওই দোকান এতটাই ছোট যে সেখানে বসে চা খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে অনেক পথচারী চা-বিস্কুট কিনে দাঁড়িয়েই খেয়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন মাতুয়ারা।

মাতুয়ারা বেওয়ার এই কষ্টের কথা জানতে পেরে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জায়গা তৈরিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আনেজ উদ্দিন।

বসার স্থান তৈরির জন্য তিনি ঢেউটিন, সিমেন্টের তৈরি খুঁটি এবং নগদ অর্থ সহায়তা করেন। এতে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জন্য একটি ছোট পরিসরের ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন মাতুয়ারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

মাতুয়ারার জীবনের গল্পটি কেবল একটি ছোট চায়ের দোকানের গল্প নয়। স্বামীকে হারানোর পর জীবিকার তাগিদে একা হাতে সংসার সামলানোর সংগ্রামের গল্প এটি। প্রতিদিনের মতো দোকানের সামনে বসে থাকা, চা তৈরি করা, বিস্কুট বিক্রি আর দিন শেষে সামান্য আয় নিয়ে ঘরে ফেরা-এই নিয়েই তার জীবন।

স্থানীয়রা জানায়, দোকানের পাশে বসার জায়গা তৈরি হলে পথচারীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি মাতুয়ারার ছোট ব্যবসাটিও কিছুটা গতি পেতে পারে। স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়া একজন নারীর জীবনে সামান্য এই সহযোগিতাও হয়ে উঠতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা।

জীবন কখনও কখনও বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য বড় আয়োজনের অপেক্ষা করে না। কারও পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট একটি উদ্যোগও একজন মানুষের কঠিন দিনগুলোকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। চকবাদকয়া মোড়ের ছোট্ট চায়ের দোকানটি যেন সেই মানবিকতারই একটি নীরব গল্প বলে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত