গোবিন্দগঞ্জে ৪৩ কমিউনিটি ক্লিনিক লাইফ সার্পেটে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৬৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩টি ক্লিনিকের ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এসব ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গর্ভবর্তী নারী, শিশু ও দরিদ্র রোগীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোন সময় ভবন ধসে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ৪টি, নাকাই ইউনিয়নের ৩টি, কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ৩টি, হরিরামপুর ইউনিয়নের ২টি, তালুককানুপুর ইউনিয়নের ৫টি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩টি, শালমারা ইউনিয়নের ৩টি, শাখাহার ইউনিয়নের ৩টি, কোচাশহর ইউনিয়নের ২টি, রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ২টি, রাজাহার ইউনিয়নের ১টি ও গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩টিসহ মোট ৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা একেবারেই বেহাল।

এরমধ্যে বেশিভাগ ভবন প্রায় ২৬ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। সেই থেকেই সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়েছে। দরজা-জানালা ভেঙ্গে গেছে। কোথাও মেঝে দেবে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। অধিকাংশ ক্লিনিকে টয়লেট ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও নেই। রোগীদের বসার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বেশ কিছু ক্লিনিক ভবনের ছাদের কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে- রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাগ্রহীতারা নিয়মিত আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। ঝুঁকির কারণে অনেক গর্ভবতী নারীরা এসব ক্লিনিকে যেতে সাহস পায়না।

উপজেলার গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। কিন্তু ভবনের বেহাল অবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলছে ওষুধের সঙ্কট।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উপজেলার ৬৯টি ক্লিনিকের অধিকাংশেই প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ থাকেনা। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসাসহ নানা জরুরী সেবা ব্যাহত হচ্ছে। 

নাকাই ইউনিয়ন পলিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ওয়াহেদুন্নবী সরকার জানান, নিয়মানুসারে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অন্তত ২০ ধরণের প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্লিনিকেই দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছেনা। মাঝেমধ্যে সামান্য ওষুধ সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছেনা। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসা প্রান্তিক মানুষকে অনেক সময় খালি হাতেই ফিরতে হয়।

উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের খুকশিয়া কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মাহমুদ আরাফাত মিশন বলেন, ক্লিনিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। বিগত ২৫ বছর আগে ক্লিনিকটি নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত মেরামত না করায় ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

কুঞ্জমালঞ্চা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শরিফুল ইসলাম বলেন, ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অবস্থা দেখে মনে হয় এগুলো নিজেরাই লাইফ সার্পেটে আছে। জরাজীর্ণ ক্লিনিকগুলো ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, যেসব কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ওষুধ সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এ নিয়ে নানা সমস্যা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত