সময় শেষ, তবু শেষ হয়নি ১৩ কোটি টাকার সড়ককাজ

গাড়ি থেকে ঢালাইয়ের মালামাল নামানোর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরও ফিনিশিংয়ের চেষ্টা, কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আস্করিয়া সড়কের নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চলমান সড়কের কাজে ঢালাইয়ের জন্য গাড়ি থেকে মালামাল নামানোর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা শক্ত হয়ে যাওয়ার পর পানি দিয়ে ফিনিশিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে কাজ করা হলে সড়কের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যতে এর ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ হলে বাঁশখালী পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার আস্করিয়া সড়কের প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদারস লিমিটেড। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়। এক বছর মেয়াদি প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়সীমা ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই নির্ধারণ করা হলেও সেই সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মনীতি ও নির্ধারিত সূচি অনুসরণ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো কাজ চলছে। সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ ধীরগতিতে চলায় ড্রেনের মাটি ও নির্মাণসামগ্রী সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই নালার পানি উপচে রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং সড়কটি অনেকটা ‘মিনি পুকুরে’ পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও স্থাপনা জটিলতার কারণে সড়কের নির্দিষ্ট কিছু অংশে বিদ্যুতের খুঁটি এবং স্থানীয় কিছু অবৈধ বা অপরিকল্পিত স্থাপনা সরানো হয়নি। এতে ড্রেন ও মূল রাস্তা প্রশস্ত করা সম্ভব হয়নি। খুঁটির ওপর ঢালাই করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখায় প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার বাসিন্দা এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে চলমান কাজে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক না থাকায় ঢালাইয়ের কাজ যথাযথভাবে ফিনিশিং করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, ঢালাইয়ের পদ্ধতি, ফিনিশিং এবং প্রকল্পের নির্ধারিত কারিগরি মান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালে পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে এরপরও কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

মো. শাকিল নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘুরে যাওয়ার পরও বাঁশখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার কাজের একই বেহাল দশা। গাড়ি থেকে মালামাল নামানো হলেও ফিনিশিং করার মতো উপযুক্ত লোক নেই। কাজের অভাবে ঢালাই জমে নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাঁশখালী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একদিকে গরম, অন্যদিকে শ্রমিক কম থাকায় কাজে কিছুটা বিঘ্ন হয়েছে। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি ঠিক করে দিয়েছেন।

বাঁশখালী পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, আস্করিয়া সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের আশ্রয় না নিয়ে সঠিকভাবে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত