লাউয়াছড়ার বানর খায় টক ফল ‘আনারকলি’

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বাংলাদেশের অন্যতম অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনাঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা হলো লাউয়াছড়া। জাতীয় উদ্যান হলেও এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। 

বাংলাদেশের ১০টি জাতীয় উদ্যান ও ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে এটি একটি অন্যতম। ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া উদ্যানটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন সৃষ্টি হয়। 

বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সরকার এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। বনটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ। 

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে এ বনে। বনটি বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য বিখ্যাত। 

উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছো বিড়াল, রাম কুকুর, মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির জীবজন্তু। তবে বনের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে বানর ও সিংহ বানরের। বানদের দল বনের অভ্যন্তরে খাবার না পেয়ে প্রায়ই হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। আর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল প্রবেশপথে প্রতিনিয়তই দেখা পাওয়া যায় প্রচুর বানরের। তারা পর্যটকদের প্রদত্ত খাবারের লোভে মূল প্রবেশপথে ঘুরাঘুরি করে। 

বানর ফলভোজী একটি প্রাণী। কলাসহ নানা ধরণের মিষ্টি ও নরম ফল তাদের পছন্দ। বন্য পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য ফলের পাশাপাশি তারা গাছের পাতা, বীজ, ফুল, পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। এক সময় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বানরের খাদ্য তালিকার প্রচুর ফল গাছের অস্থিত্ব থাকলেও এখন তা  আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও বনদস্যুরা গাছ কেটে বন উজাড় করায় বানরের খাদ্যের সংস্থান অনেকটা কমে গেলেও রয়ে গেছে বনের শোভাবর্ধনকারী অসংখ্য বানর। বনাঞ্চল হ্রাস পাবার সাথে সাথে খাদ্য সংকটে বানরগুলোর অবস্থা ত্রাহিভাব। এ বানরগুলোর খাবারের একমাত্র ভরসা হলো বন ভ্রমণে আসা পর্যটক অথবা লোকালয়ে গিয়ে খাদ্যের সংস্থান।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে পর্যটক আসলেই অনেক সময় বানরেরা গিয়ে তাদের আশপাশে ঘুরঘুর করে। পর্যটক ও দর্শনার্থীরা কলা, বাদাম, মুড়ি ও চানাচুর কিনে দিলেই বানরগুলোর উধোর ভরে। শুধু তাই নয়, তারা পর্যটকদের ফেলে দেওয়া খাবারের অংশও কুড়িয়ে খেয়ে থাকে। এমনকি মিষ্টি জাতীয় ফল বানরদের পছন্দের হলেও ক্ষুধার জ্বালায় অনেক সময় টক জাতীয় পাহাড়ি ফলও ট্যাং ফল বা আনারকলি খেয়েও বানরেরা দিন কাটাচ্ছে এখন। যদিও টক জাতীয় ফল বানরের খুবই অপছন্দ। 

প্লাস্টিকের চেয়ারে আয়েশ করে বসে বানরের টক ফল আনারকলি ভক্ষণের ছবিটি ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল গেইটের সামনে থেকে তোলা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত