৪০০ শিক্ষার্থীকে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের বৃত্তি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪০০ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাদের মধ্যে ২০০ জন ছাত্র ও ২০০ জন ছাত্রী।

বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীকে দুই বছরে তাদের কোর্স সম্পন্ন করার জন্য মোট ২ কোটি ২০ লাখ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৫০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৃত্তির অর্থ গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট ৩৫০ শিক্ষার্থীর বৃত্তির অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে প্রদান করা হবে।

বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ. কে. আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যাংকের এসইভিপি ও কোম্পানি সচিব মো. আবুল বাশার।

অনুষ্ঠানে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. সানাউল্লাহ সাহিদ, আব্দুল বারেক, আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, খন্দকার শাকিব আহমেদ ও ফকির মনিরুজ্জামান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রিয়াজুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এম. সাইফুল ইসলাম ও মো. জাফর ছাদেক, এফসিএ এবং ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের ইনচার্জ ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. হারুনুর রশীদসহ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইউনুছ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন শুধু নিজেদের জন্য সফল না হয়ে অন্যদের জন্যও পথ তৈরি করে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের মতো মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা কারও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। স্বপ্ন, অধ্যবসায়, সততা ও কঠোর পরিশ্রমই ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে অনেক আলোকিত মানুষ বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ. কে. আজাদ বলেন, বৃত্তি মেধাবীদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা মেধা, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে এই আস্থার মর্যাদা দেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি বলেন, জীবনে সফল হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, মানবিকতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে জীবনের অংশ করে নিতে হবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই বৃত্তি কর্মসূচি।

শিক্ষার্থীদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বানও জানান এ. কে. আজাদ।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি ব্যাংকের মূল দায়িত্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা। তবে দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শুধু ব্যাংকিং সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজ, দেশের মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। আর সেই দায়িত্ব পালনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা।

তিনি বলেন, একজন মানুষকে শিক্ষিত করলে ভবিষ্যতে সে অসংখ্য মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই শিক্ষায় বিনিয়োগের সুফল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাই একটি জাতিকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত ও জ্ঞান অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত