পঁচাত্তরে এসে নতুন নাটক সৃষ্টিই আমার বড় উদযাপন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

গত ৪ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পূর্ণ করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন লাকী ইনাম। জীবনের এই প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী এবং তার নির্দেশনায় আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’র প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। নাটক ও তার দীর্ঘ শিল্পযাত্রা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুন্ডু

জীবনের ৭৫ বছর পূর্ণ করলেন। এই বিশেষ মুহূর্ত উদ্যাপনে নতুন নাটককে কেন বেছে নিলেন?

আমার কর্মীরা চেয়েছিল দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে। ভাবনাটি নিয়ে একটু তলিয়ে দেখলাম, আমার শৈশব থেকে পুরো জীবনটাই নাটকে নিবেদিত। ফলে জীবনের পঁচাত্তর উদযাপন যদি করতেই হয়, তবে নতুন নাটক ও প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শিল্পকলা একাডেমির হল মেলায় নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন কাজ ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’র মাধ্যমে মঞ্চে এই উদযাপন নিশ্চিত করা গেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি ভিন্ন রচনাকে মিলিয়ে ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ নামকরণ ও রূপায়ণের পেছনের ভাবনাটি কী?

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘দুই পাখি’ এবং তার নাটক ‘রক্তকরবী’র মূল সুর আসলে এক। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে মানুষের জীবন যেন কৃত্রিম হয়ে পড়ছে। একদল মানুষ সোনার খাঁচায় আবদ্ধ থেকে ওড়ার শক্তি হারাচ্ছে, আরেক দল অনিশ্চয়তার মধ্যেও মুক্ত বাতাসে বাঁচছে। খাঁচার পাখি ও বনের পাখির সংলাপ যখন মুক্তির পথ মেলাতে ব্যর্থ হয়, ঠিক তখনই আবির্ভাব ঘটে ‘রক্তকরবী’র নন্দিনীর। নন্দিনী দ্রোহ ও আত্মত্যাগ দিয়ে যক্ষপুরীর জাঁতাকল ভেঙে মানুষকে আবার জীবনের মূল সুরে ফিরিয়ে আনে। দুটি সৃষ্টি মিলে এক সার্বিক মুক্তির পথরেখা তৈরি করেছে এই নাটকে।

আপনার দর্শন অনুযায়ী থিয়েটারের মাধ্যমে দর্শককে কোন বার্তাটি দিতে চান?

আমার মতে, দুটি কাজের মূল বার্তা একটাই প্রতিটি প্রাণ ও মানুষের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানে কেবল দৃশ্যমান প্রাচীর বা খাঁচা ভাঙা নয়, বরং অন্যকে খাঁচায় পুরে রাখার সংকীর্ণ মানসিকতা দূর করা। সবাইকে যার যার মৌলিকত্ব নিয়ে বাঁচতে দেওয়াই মূল বিষয়।

নাটকটির মহড়া ও পেছনের কারিগরদের দলগত সমন্বয় কেমন ছিল?

শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত আমার গায়কী, অভিনয় কিংবা নৃত্যে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব গভীর। নতুন এই কাজের পা-ুলিপিতে হৃদি হক আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আলো নির্দেশনায় পরামর্শ দিয়েছেন ঠান্ডু রায়হান। ৩৫ জন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে কাজটি গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এই প্রযোজনা ঘিরে আপনার প্রাপ্তি ও দর্শকের কাছে প্রত্যাশা কতটুকু?

দলগত নাটকের যে ক্রান্তিকাল চলছে, সেখানে ৩৫ জনের একটি বিশাল দল নিয়ে কাজ শেষ করাটাই বড় প্রাপ্তি। ড. ইনামুল হকের অনুপস্থিতিতে তার পছন্দের থিয়েটার সচল রাখা আমার জন্য গর্বের। দর্শক হলে এসে নাটকের সূক্ষ্ম শিল্পবোধ গ্রহণ করতে পারলে আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত