পুরোনো লোহা চুরি ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অবস্থানে পুলিশ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ এএম

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে লোহা পরিবহনের সময় সংঘবদ্ধভাবে পুরোনো লোহা চুরি, পরিবহন ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। লোহা চুরি, চোরাই লোহা পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা চোরাই চক্রকে সহযোগিতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া লোহা ক্রয়-বিক্রয় বা মজুদ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া চোরাই লোহা চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান ও টহল জোরদার করা হবে। শুধু চোর নয়, চোরাই মাল পরিবহনকারী, মজুদকারী, মধ্যস্বত্বভোগী ও ক্রেতাসহ পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া কথা জানিয়েছেন তিনি।

সভায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লোহা পরিবহনের সময় ট্রাকের নম্বর, চালক, গন্তব্য ও চালানের তথ্য সংরক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনে  জিপিএস ট্র্যাকিং চালু, মালামাল সিল বা লকিং ব্যবস্থা জোরদার এবং কারখানার প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার পাশাপাশি পরিবহন নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

এতে অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত