ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশের কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে কর্মীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশ জানায়, দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা বাংলাদেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং আইন পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করবে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কর্মীরা কোনোভাবেই জড়িত নন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের হাইকোর্ট থেকে ইতোমধ্যে কর্মীদের জামিন নেওয়া হয়েছে।
ডেলিভারি হিরো স্টোরস আরও জানায়, চারটি ফৌজদারি মামলা করেছেন মো. শিহাব মাহমুদ বশির। ফুডপান্ডা বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরসের কাছ থেকে পাওনা অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বশিরের দেওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বাণিজ্যিক বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মামলা করা হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শিহাব মাহমুদ বশির নিজের দায় এড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
ডেলিভারি হিরো স্টোরসের দাবি, চারটি মামলারই তদন্ত করেছে একই থানার পুলিশ। তদন্ত শেষে দেওয়া দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি। একই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকেই ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, অসৎ উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক বিরোধকে ফৌজদারি মামলা হিসেবে আদালতে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রতি তাদের আস্থা দুর্বল হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে বা এফডিআইতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিরোধটি মূলত বাণিজ্যিক এবং এ বিষয়ে কর্মীদের কোনো ফৌজদারি দায় নেই—এটি প্রতিষ্ঠায় আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ডেলিভারি হিরো স্টোরস।
এর আগে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্ত অপর চারজন হলেন প্রতিষ্ঠানটির কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর (ডেলিভারি) মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক। তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।
‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ বা পিএনপি নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দুটি মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দেশীয় ও আমদানি করা সবজি এবং ফলমূল সরবরাহ শুরু করেন শিহাব মাহমুদ বশির। শুরুতে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক লাখ টাকার কেনাকাটার আদেশের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হতো।
এ ছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ বা আরটুভি স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন বাদী।
‘ফুডপান্ডা’র এমডিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা