সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে: সিলেটে জামায়াত আমির

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সরকার জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা সংসদের ভেতরে থেকেই সমাধান চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকারই বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। তাই যৌক্তিক ও জনগণের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সরকার শুধু বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করবে, কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কি জাতি দায়িত্বশীল আচরণ আশা করতে পারে না? জাতীয় সংকট দীর্ঘায়িত করার দায় সরকার এড়াতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চাঁদাবাজি-ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গত সাত মাসে সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জামায়াতের এক্সপার্ট টিম সরকারকে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটিকে গুরুত্ব দেয়নি। আবার পরামর্শ চেয়ে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের কতিপয় নেতার বক্তব্যে এমন মনে হচ্ছে, বিরোধী দল লংমার্চে যেসব গাড়ি নিয়েছে, সেগুলো সেদিন গ্যারেজে পড়ে থাকত। অথচ বিরোধী দল উপযুক্ত ভাড়া দিয়ে গাড়িগুলো নিয়েছে। এসব বিতর্ক তুলে সরকার বিরোধী দলের যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড শক্ত নয়। তাই তারা নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই চেয়েছিলাম।’ এ ছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আবারও দাবি জানান জামায়াতের আমির।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ও ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়াই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একা বাংলাদেশের পক্ষে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য চীন, ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কয়েক শ বছর ধরে এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ব্যবস্থা চলে আসছে। এখন ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের তহবিলে এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের যে ব্যবস্থা হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ধর্মীয় হওয়ায় মাজারের আয় সমাজ-ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা গেলে সেটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত হতে পারে।’

এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহারের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘মাজারের আয় সমাজকল্যাণে ব্যবহারের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা করা গেলে মানুষের আস্থাও বাড়বে এবং দানের পরিমাণও বাড়তে পারে। মাজারের অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সমাজের প্রয়োজনেও কাজে লাগে।’

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-ঊন-নূর, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাজান আলী, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত