নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

‘নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা রাস্তায় নেমেছি’ এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ টাঙ্গাইল অতিক্রমকালে নগর জালফৈ বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই লড়াই জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। সেই লড়াইয়ের আওয়াজ নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব। এর মাঝে কোনো বিরতি নেই, এই কাফেলা অবিরাম চলতেই থাকবে।

তিনি বলেন, প্রথম দফার লং মার্চ সফল হয়েছে এবং তাতে মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এরপর থেকেই সরকার বিরোধীদের লং মার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় কেন বাস্তবায়ন করা হলো না, ১৪শ শহীদের রক্তের সঙ্গে কেন বেঈমানি করা হলো, এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। জাতি যে বিষয়গুলো চায়, সেগুলো দিতে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। আমাদের দাবি আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা আরও বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফার ঘোষণাও আসতে পারে।

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি স্বৈরাচারকে হটিয়েছি, এখন নতুন স্বৈরাচার গজিয়ে উঠেছে বাংলাদেশে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ এবং বৈষম্য দূর করার যে প্রত্যাশা ছিল, সেগুলো পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার যদি জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ১১ দলীয় ঐক্য সরকার যে ভাষা বুঝবে, সে ভাষায় কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের দাবিতে গণভোট দিয়েছে। সেই সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের গণরায়কে অসম্মান করার চেষ্টা থেকে বর্তমান সরকার বিরত না থাকলে তাদের পরিণাম অতীতের মতোই হবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লং মার্চটি শুরু হয়। পরে এটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করে। টাঙ্গাইলে কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা দেখা যায়।

পথসভায় টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত