অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখা

কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা কর্মকর্তা, উদ্বিগ্ন গ্রাহক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন এক কর্মকর্তা। গ্রাহকদের অভিযোগ টাকা জমা রসিদ দেওয়া হলেও ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা না দিয়ে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগ, ওই ব্যাংকের শ্রীনগর বাজার শাখায় সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি পঞ্চগড়ে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করেন। জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে এসে হিসাব নম্বরে কোনো টাকা জমা না হওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর ঘটনাটি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে দিনভর ব্যাংকে ছুটে আসতে শুরু করেন একের পর এক গ্রাহক।

গ্রাহকরা বলছেন, ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগের কাছে টাকা দেওয়ার পর তারা ব্যাংকের রসিদ হাতে পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান জমা দেওয়া টাকা হিসাবে নেই। বিষয়টি জানতে ব্যাংকে এসে ওই কর্মকর্তাকে না পেয়ে গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, অন্তত শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগ ওই শাখা অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। একই সঙ্গে তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জেলার শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও এলাকার জুথি আক্তার বলেন, এক সপ্তাহ আগে সাত লাখ টাকা জমা দিয়েছি। এখন টাকা তুলতে ব্যাংকে এসে জানতে পারি আমার হিসাবে ওই টাকা জমা হয়নি। একই উপজেলার বারিগাঁও এলাকার জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তার ৭ লাখ টাকা হিসাবে নেই। আড়িয়লপাড়ার নাছির হাওলাদার বলেন, তিনি ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। হিসাব যাচাই করে এখন ওই টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাস্থ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আতিকুর রহমান সিদ্দিকী শ্রীনগরে এসে বলেন, বৈধ রসিদ যাদের রয়েছে, তারা সবাই টাকা পাবেন। তবে কতজন গ্রাহকের কত টাকার হিসাব মিলছে না, তা অডিট শেষে স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাছিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। এটি সরকারি ব্যাংক, তাই গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সমস্যা হবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত