তিন দিনের সফরে ওয়াশিংটনে ‘শি’

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করে চীনা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ছয় যুগের বেশি সময়ের প্রথা ভেঙে শি ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বিমানবন্দরে তাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শির এই সফরকে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে। এর আগে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। আগামী ১০ নভেম্বর ওই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল। বড় পরিসরের একটি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য বাড়তি সময় পেতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

শি জিনপিং ওয়াশিংটনে নামার পর উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ও তাদের স্ত্রীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান। তারা দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলেন, ছবি তোলেন। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুটি বি-১ বোমারু বিমানের ফ্লাইওভার, সামরিক বাহিনীর প্রতিটি শাখার প্লাটুন এবং দুই দেশের পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সি-স্প্যানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর পর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত’। তিনি বলেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ অর্জন এবং ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’- দুটিই পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। দুই দেশ একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমে বৃহত্তর বিশ্ব উপকৃত হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একজন মহান নেতা এবং এটি একটি মহান মুহূর্ত। তিনি প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মতবিনিময় এবং দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করেন।

দুই পরাশক্তির প্রেসিডেন্টরা এমন এক সময় বৈঠকে বসছেন, যখন বিশ্ব যুদ্ধ-সংঘাতে বিপর্যস্ত। ট্রাম্প ও শির বৈঠকে নিশ্চিতভাবেই ইরান যুদ্ধের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের ব্যাপক প্রভাব থাকায় এর কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দেশে ব্যাপকভাবে অসন্তোষের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যমান অচলাবস্থা কাটাতে চীন ট্রাম্পকে সহযোগিতা করবে কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাইবেন কি না সেটিও নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া বিরল খনিজ আর কম্পিউটার চিপ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ, তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এ বিষয়গুলোও নিয়ে দুই দেশর রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবির বিষয়টি নতুন করে তুলে ধরতে পারেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে শির আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প চীনের ওপর পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর রাখতে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে পারেন। এ ছাড়া দেশ দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও আলোচনা করতে পারে। এআই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চললেও, সম্প্রতি এর হুমকি মোকাবিলায় যৌথ কার্যক্রম চালাতে সম্মত হয়েছে উভয়ই।

জি২০ সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ : ইউরোপের আপত্তি সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে আগামী ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মস্কোকে আবার বিশ্ব কূটনৈতিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান। গত বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই নয়; বরং বিশ্বের অন্যান্য নেতার সঙ্গেও আলোচনার একটি বড় সুযোগ।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত