ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগীর অস্বাভাবিক চাপ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বছরের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এসে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ থাকায় অনেক রোগীকে মেঝে ও করিডরে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। মারা গেছেন ১৩ জন। অর্থাৎ চলতি বছরের মোট আক্রান্তের বড় একটি অংশই এসেছে সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো ডেঙ্গু সামারি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গুর রোগীদের মধ্যে ৮১৫ জন পুরুষ, ৩৭৫ জন নারী এবং ৬১ জন শিশু। গত ২৪ হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। মারা গেছেন একজন। এ সময় চিকিৎসা নিয়ে ৭৬ জন বাড়ি ফিরেছেন।

বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী এবং ১০ জন শিশু।

হাসপাতালের ডেঙ্গু আক্রান্তের মাসভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, জানুয়ারিতে হাসপাতালে ২২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কোনো মৃত্যু নেই। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত হন ১১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। মার্চে রোগী ছিল ১১ জন। এপ্রিলে ৯ জন। মে মাসে চিকিৎসা নেন ২০ জন। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে কেউ মারা যাননি। জুনে চিকিৎসা নেন ৫৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৪২, নারী ৭ ও শিশু ৪ জন। এ মাসে ৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে ৩৬০ জনে দাঁড়ায়। মৃত্যু হয় ২ জনের। আগস্টে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এ মাসে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন ৯৬৯ জন। আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরপর চলতি সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাসের  প্রথম ২৪ দিনেই আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫১ জনে। এ সময় পুরুষ ৮১৫, নারী ৩৭৫ ও শিশু ৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জুন থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নারী হলেন খেলন সরকার (৬৫)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর রামবাবু রোড এলাকার নরেন্দ্র সরকারের স্ত্রী।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দীন খান বলেন, রোগীর চাপ বিবেচনায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ অনেক বেশি। জায়গার সংকট থাকলেও চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ময়মনসিংহ নগরীর ৬টি ওয়ার্ডকে ‘স্পেশাল জোন’ ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় প্রতিদিন দুই দফায় ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এইচ কে দেবনাথ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণে নজর দেওয়া হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত