সৈয়দ হকের প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ এএম

কবিতা, উপন্যাস, নাটক, গল্প ও অনুবাদসাহিত্যের নানা শাখায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক। এক দশক পরও তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তার স্ত্রী, কথাসাহিত্যিক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারা সৈয়দ হকের আহ্বান, ‘তাকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় তার লেখা পড়া’। সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প ও অনুবাদসাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তার বিচরণ। দীর্ঘ ৬২ বছরের সাহিত্যজীবনে নানা ধরনের রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। এ কারণেই তিনি পরিচিতি পান ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে। আজ তার দশম প্রয়াণবার্ষিকী । ২০১৬ সালের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানের সঙ্গে এবার যুক্ত হতে পারছেন না আনোয়ারা সৈয়দ হক। তিনি বলেন, ‘দেখতে দেখতে দশম মৃত্যুবার্ষিকী এসে গেল। যেখানে মনে হয়েছিল একটা দিনও কাটবে না, সেখানে ১০টা বছর কাটিয়ে দিলাম এবং আমি এখনো বেঁচে আছি, এটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার।’

সৈয়দ শামসুল হকের লেখা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আনোয়ারা হক বলেন, ‘আমি শুধু তোমাদেরকে অনুরোধ করব তাকে পাঠ করো, পাঠ করো। তিনি যা লিখে গেছেন সেটা পাঠ করো। পাঠ করলেই জানবে যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ একজন সাহিত্যিককে আমরা হারিয়েছি।’ তার মতে, সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় বাঙালির ইতিহাস ও জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো উঠে এসেছে। দেশ, মাতৃভূমি, ভাষাআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসবই আছে তার লেখার ভেতরে।’

১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৫১ সালে ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায় তার প্রথম গল্প ‘উদয়াস্ত’ প্রকাশিত হয়। পরে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। কবিতায় তার স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি হয়। ‘একদা এক রাজ্যে’, ‘বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা’ ও ‘পরাণের গহীন ভিতর’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘এক মহিলার ছবি’, ‘অনুপম দিন’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’ ও ‘খেলারাম খেলে যা’। নাট্যকার হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে লেখা ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ তার উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম।

‘আমি জন্মেছি বাংলায়’ কবিতায় বাঙালির ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে নিজের পরিচয়কে একসূত্রে বেঁধেছেন সৈয়দ শামসুল হক। চর্যাপদ থেকে ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবাঙালির ইতিহাসের নানা অধ্যায় উঠে এসেছে তার কবিতায়। দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার পাশাপাশি তার লেখায় ছিল মানবিকতা ও সাম্যের প্রত্যয়।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে লন্ডনে গিয়ে বিবিসি বাংলায় যোগ দেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরও তিনি বিবিসি বাংলায় পাঠ করেন।

কুড়িগ্রামে শায়িত আছেন এই সব্যসাচী লেখক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত