ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি মামলায় ম্যানচেস্টার সিটি ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হলেও ক্লাবটিকে নির্দোষ প্রমাণের বিষয়ে নিজেদের শতভাগ আত্মবিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সিটির বর্তমান চেয়ারম্যান খলদুন আল মুবারক। অন্যদিকে, ক্লাবটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টাইন শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আপিলেও যদি এই রায় বহাল থাকে, তবে সিটিকে অত্যন্ত "ভয়াবহ ও কঠিন" শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
শনিবার মর্থকদের উদ্দেশ্যে লেখা এক খোলা চিঠিতে সিটির বর্তমান চেয়ারম্যান খলদুন আল মুবারক জানান, আইনি প্রক্রিয়াটি এখনো অনেক দূর বাকি এবং ক্লাবের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। শুক্রবারের গণমাধ্যম প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে খলদুন বলেন, "আপনাদের মতো আমিও পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। আমার পরিবারকে যা বলেছি, আপনাদেরও তা-ই বলছি—প্রিমিয়ার লিগের এই আইনি লড়াইয়ের পথ অনেক দীর্ঘ। মামলার শুরু থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের যে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস আমাদের ছিল, তা এখনো ততটাই শক্তিশালী রয়েছে।"
আইনি প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশদ আলোচনা না করতে পারলেও খলদুন সমর্থকদের ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি এবং সাম্প্রতিক দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিগুলোর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শুরু থেকেই প্রিমিয়ার লিগকে সব ধরনের সহযোগিতামূলক তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার পরও এই অভিযোগে ক্লাবটি বিস্মিত হয়েছিল এবং নিরপেক্ষ স্বাধীন কমিশনের কাছে পেশ করা অলঙ্ঘনীয় প্রমাণাদির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সিটি প্রস্তুত। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "অনেকে মনগড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং চারপাশে অনেক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। আগেও আমরা একসঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে জয়ী হয়েছি। এবারও ক্লাবের গতি থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।"
তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের এমন দৃঢ় দাবির বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টাইন (১৯৯৮-২০০৩)। টাইমস রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আপিল প্রক্রিয়ার পর যদি সিটি সত্যি দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে শুধু আর্থিক জরিমানা দিয়ে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।
বার্নস্টাইন বলেন, "আপিল প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না, যা পুরো ইংলিশ ফুটবলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে আপিলের পরও যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আমার প্রিয় ক্লাবটিকে অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। শুধু আর্থিক জরিমানা এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না, শাস্তির মাত্রা নিশ্চয়ই তার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক হবে।"
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সঠিক আর্থিক তথ্য প্রদান না করা, খেলোয়াড় ও কোচের পারিশ্রমিকের বিস্তারিত গোপন করা, আর্থিক স্থায়িত্বের নিয়ম ভঙ্গ করা এবং তদন্তে অসহযোগিতা করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাধীন কমিশনের শুনানি শুরু হয়।
যদি এই রায় আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থাকে, তবে সিটির জন্য পয়েন্ট কর্তন এবং এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো অভূতপূর্ব শাস্তি আসতে পারে। পাশাপাশি লিগের অন্যান্য দলগুলোও সিটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দোহাই দিয়ে আইনি ক্ষতিপূরণের দাবি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০০৮ সালে শেখ মনসুরের মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ক্লাবটি অধিগ্রহণ করার পর থেকে ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। গত ১৫ বছরে তারা ৮টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জিতেছে। তবে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য এনে দেওয়া কোচ পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পরপরই এমন আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ইতিহাদের ক্লাবটি। যদিও প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে একে "গোপন আইনি প্রক্রিয়া" হিসেবে উল্লেখ করেছে।
লাখ টাকা প্রণোদনাও কাজে দেয়নি আর্চারদের